বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবসরকালীন ব্যবস্থার সর্বশেষ মূল্যায়নে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সৌদি আরব। প্রকাশিত ২০২৬ সালের মার্শ সিএফএ ইনস্টিটিউট গ্লোবাল পেনশন ইনডেক্সে বিশ্বের ৫৫টি পেনশন ব্যবস্থার মধ্যে দেশটি দ্বাদশ স্থান লাভ করেছে।
সৌদি আরব ব্যবস্থার সামগ্রিক স্কোর ১০০ নম্বরের মধ্যে বিগত মূল্যায়নের ৬৭ দশমিক ৬ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৭৩ দশমিক ২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দেশটি ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫ ধাপ এগিয়েছে। এর আগে ৪৪টি ব্যবস্থার মধ্যে দেশটির অবস্থান ছিল ২৭তম।
অবসরকালীন ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা, স্থায়িত্ব এবং সততা সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে সততা সূচকে ৯ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৮৩ দশমিক ২ পয়েন্ট অর্জিত হয়েছে, যা এই শ্রেণিতে সর্বোচ্চ বা এ রেটিং নিশ্চিত করেছে।
স্থায়িত্বের মানদণ্ড ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৬১ দশমিক ২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে এবং পর্যাপ্ততার স্কোর ৭৫ থেকে বেড়ে ৭৭ দশমিক ২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সামগ্রিক পেনশন ব্যবস্থাটি বি গ্রেড ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
৭৩ দশমিক ২ স্কোর নিয়ে সৌদি আরব যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড এবং হংকংয়ের মতো প্রতিষ্ঠিত অনেক বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে বি গ্রেড অর্জন করেছে।
প্রশাসনিক সংস্কার, নিয়মনীতি শক্তিশালীকরণ, তথ্য আধুনিকায়ন এবং সুবিধাভোগীদের সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। জেনারেল অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ইনস্যুরেন্স অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সামাজিক বিমা ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত আধুনিকায়ন করে চলেছে।
মোনাশ সেন্টার ফর ফিন্যান্সিয়াল স্টাডিজের সহযোগিতায় সূচকটির অষ্টাদশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এটি বিশ্বের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী ৫৫টি অবসরকালীন আয় ব্যবস্থাকে ৫০টিরও বেশি সূচকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে।
গত জুন মাসে প্রকাশিত ব্ল্যাকরকের একটি গবেষণায় অবসরকালীন সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং পরিবারের তহবিল দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ব্যবহারের সুযোগ চিহ্নিত করা হয়। এতে আর্থিক বাজার গভীরতর করা এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়ন ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।
২০২৪ সালে অনুমোদিত পেনশন সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এই ফলাফল এসেছে। ২০২৪ সালের ৩ জুলাই নতুন সামাজিক বিমা আইন কার্যকর হয়, যা নতুন কর্মপ্রবেশকারীদের জন্য অবসরের বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ করে এবং প্রাক-অবসর যোগ্যতার শর্তে পরিবর্তন আনে।
