রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

নাইজারে সেনা মোতায়েন

নাইজারে ঐতিহাসিক সেনা মোতায়েনের অনুমোদন আলজেরীয় সংসদের উচ্চকক্ষের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

নাইজারে ঐতিহাসিক সেনা মোতায়েনের অনুমোদন আলজেরীয় সংসদের উচ্চকক্ষের

জরুরি এক অধিবেশনে নাইজারে সেনা পাঠানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে আলজেরীয় সংসদের উচ্চকক্ষ। দেশের বাইরে সামরিক ইউনিট পাঠানোর জন্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেশনস কাউন্সিল এই ভোটাভুটি সম্পন্ন করে।

আলজেরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী দেশটির রাষ্ট্রপতির জাতীয় সীমানার বাইরে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে এজন্য সংসদের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

একই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির জন্য সন্ধ্যার দিকে পিপলস ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা সংসদের নিম্নকক্ষ আলাদা একটি অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা করে। আলজেরীয় দৈনিক আল খাবারে এই সংসদীয় প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

এই সেনা মোতায়েন চূড়ান্ত আইনি অনুমোদন পেলে তা হবে ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পর আলজেরিয়ার প্রথম কোনো সামরিক মিশন। ওই সংঘাতে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশ অংশ নেয়, যা আরব বিশ্বে অক্টোবর যুদ্ধ এবং ইসরায়েলে ইয়োম কিপুর যুদ্ধ নামে পরিচিত।

অনুমোদিত এই মিশনের আওতায় পাঠানো সামরিক ইউনিটগুলো মূলত নাইজারের তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সালিফু মোদি আলজেরিয়া সফর করেন এবং তার পরপরই এই ভোটাভুটি হয়।

জেনারেল মোদি আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেবৌনে এবং পিপলস ন্যাশনাল আর্মির চিফ অব স্টাফ জেনারেল সাইদ চানেগ্রিহার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের সময় দুই প্রতিনিধিদল একটি সামরিক সহযোগিতা প্রটোকলে স্বাক্ষর করলেও কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করেনি।

চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট তেবৌনে নিশ্চিত করেন যে আলজেরিয়া গত আগস্টের শেষ দিকে নাইজারে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। রাজধানী নিয়ামেতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করতে সহায়তা করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আলজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে জানায় যে অস্থিরতার পর তারা নাইজারে চারটি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। নিয়ামে বিমানবন্দরে রিফুয়েলিং বিমানের পাশাপাশি সুখোই সু-৩০ যুদ্ধবিমানের দুটি দল অবতরণ করে।

নাইজারের কর্তৃপক্ষের সরাসরি অনুরোধেই এই যুদ্ধবিমানগুলো পাঠানো হয়। গত ৩০ আগস্ট মন্ত্রণালয় জানায় যে ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র নাইজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা মোকাবিলায় দেশটির সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার মিশনে বিমানগুলো নিয়োজিত রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলজেরিয়া ও নাইজারের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যের আগের কিছু উত্তেজনার পর রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক পর্যায়ে এই সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে।

banner
Link copied!