মরোক্কোর তানজির মেদ শিল্প বন্দর কমপ্লেক্স সম্প্রসারণে প্রায় ৮০০ কোটি মরোক্কান দিরহাম বা ৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন নাদোর ওয়েস্ট মেদ বন্দরটি চালুর দ্বারপ্রান্তে থাকার মধ্যেই ভূমধ্যসাগরে পণ্য খালাস ও জ্বালানি অবকাঠামো জোরালো করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজকীয় কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, গত ২৮ অক্টোবর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ এই দুটি সামুদ্রিক প্রকল্প পর্যালোচনা করেছেন। নাদোর বন্দরটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
উত্তর-পূর্ব মরোক্কোর এই নতুন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ৫৪ হাজার কোটি দিরহাম বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে। এর পরিকল্পিত জ্বালানি সুবিধার মধ্যে রয়েছে ৪০ লাখ ঘনমিটার হাইড্রোকার্বন সঞ্চয় এবং বছরে ৫০০ কোটি ঘনমিটার এলএনজি প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষমতা।
তানজির মেদ তিন প্রকল্পের মাধ্যমে বার্ষিক ৪৫ লাখ কুড়ি ফুট সমতুল্য একক কন্টেইনার পরিচালনার ক্ষমতা যুক্ত হবে। এই কাজের জন্য ১ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা হবে এবং টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য মার্সক এপিএম কোম্পানির সঙ্গে একটি রেয়াতি চুক্তি সই হয়েছে।
ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার সংযোগকারী সমুদ্রপথগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে এই বন্দর উন্নয়ন কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত ২৬ অক্টোবর কায়রোতে এক ভাষণে হরমুজ প্রণালী ও বাবে মান্দেব এলাকায় নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজকীয় কার্যালয় জানিয়েছে যে, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনের মুখে দেশের প্রতিযোগিতাকেন্দ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে একটি দক্ষ বন্দর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এই সম্প্রসারণের ফলে তানজির মেদের মোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা এক কোটি ২০ লাখে উন্নীত হতে পারে, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের বিবর্তনের মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যে মরোক্কোর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এই বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দরটি গত বছরের তুলনায় ৮.৪ শতাংশ বেশি অর্থাৎ এক কোটি ১১ লাখ টিইউ কন্টেইনার পরিচালনা করেছে। এপিএম টার্মিনালস পরিচালিত টিসি চার টার্মিনালের সাম্প্রতিক সম্প্রসারণের ফলেই মূলত এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তানজির মেদ কর্তৃপক্ষ।
নাদোর ওয়েস্ট মেদের এলএনজি প্রকল্পটি মরোক্কোর জন্য গ্যাস আমদানির নতুন পথ খুলে দিতে পারে। ইতিপূর্বে ২০২১ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে ট্রানজিট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আলজেরিয়া মাগরেব ইউরোপ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পর ২০২২ সালের জুন মাসে স্পেন থেকে মরোক্কোতে বিপরীতমুখী গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এলএনজি আমদানি টার্মিনাল চালু হলে মরোক্কোর গ্যাস সরবরাহের বিকল্প উৎস তৈরি হবে, যদিও আন্তর্জাতিক গ্যাসমূল্য বা সামুদ্রিক পরিবহন বিঘ্নের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যাবে না।
নাদোর ওয়েস্ট মেদের প্রথম কন্টেইনার টার্মিনাল থেকে শেষ পর্যন্ত বার্ষিক ৩৫ লাখ টিইউ কন্টেইনার পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ১৮ লাখ টিইউ ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় টার্মিনালটি ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। রাজকীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এই দুটি টার্মিনালে আলাদাভাবে আরও ৮০০ কোটি দিরহামের বেসরকারি বিনিয়োগ করা হয়েছে।
