ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে চলমান লড়াইয়ে আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। জাতিসংঘের একটি সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের জেরে মোট ১ হাজার ৬৭৭ জনের মৃত্যু এবং ৭ হাজার ৩৯৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল গত ২০ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যেই ৫৫০ জনের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। এই পাঁচ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৩ জন হতাহত হয়েছেন।
তাইজ, লাহেজ এবং মারিব প্রদেশে সামরিক সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আদেন, ধালে ও শাবওয়া প্রদেশে তুলনামূলক কম হতাহতের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী এবং হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে তাইজ ও লাহেজ অঞ্চলে এই সহিংসতার কারণে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথিরা রাজধানী সানা এবং বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা করতে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদির নেতৃত্বে একটি আরব জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর তাইজ শহরের আল-থাবরা জেনারেল হাসপাতালে গোলাবর্ষণ করা হয়। এই হামলায় তিনজন সেনা এবং এক রোগী আহত হন।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ২৪ অক্টোবর তাইজে ৫৬টি ট্রমা ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠায়। এই চালানের মধ্যে ট্রমা কেয়ারের জন্য ৪৬টি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ১০টি কিট অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই সহায়তার মাধ্যমে তিনটি হাসপাতাল এবং একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হয়।
এদিকে মারিব প্রদেশে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ সেখানকার ৩১টি মোবাইল মেডিকেল টিমের মধ্যে মাত্র ছয়টি বর্তমানে চালু রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা চিকিৎসাসেবা পেতে চরম সংগ্রামের মুখে পড়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, জরুরি পরিষেবাগুলোর ধারাবাহিক ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ওষুধ, জ্বালানি ও পানির ঘাটতি বিশেষ করে তাইজে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এই স্বাস্থ্যঝুঁকিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
তাইজ ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ এবং এটি বর্তমানে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে বিভক্ত। প্রাদেশিক রাজধানী তাইজ শহর এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
