শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

তানজানিয়ার বিরোধী দল

কারাগারে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ায় অনশন শুরু করছেন তুন্দু লিসু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

কারাগারে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ায় অনশন শুরু করছেন তুন্দু লিসু

কারাগারে আইনজীবীদের সঙ্গে আদালতের নির্দেশিত একান্ত বৈঠকে বাধা দেওয়ায় অনশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তানজানিয়ার কারাবন্দী বিরোধীদলীয় নেতা তুন্দু লিসু। আগামী সোমবার থেকে তিনি এই কর্মসূচি পালন করবেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।

গত শনিবার দার এস সালামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী রুগেমেলেজা নশালা জানান, সম্প্রতি কারাগারের ভেতরে সাক্ষাতের সময় লিসু তাকে অনশনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

লিসুর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে তাকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানান আইনজীবী। লিসুকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয় এবং অনশনের অংশ হিসেবে তিনি সেই ওষুধ গ্রহণ করা থেকেও বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন।

আইনজীবী নশালা জানান, লিসু তাকে বলেছেন যে তিনি পরিণতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত, তবে আইনের শাসনের জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

কারা কর্তৃপক্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আসছে বলে অভিযোগ করেন আইনজীবী। এমনকি কোনো কোনো দিন কারাগারের কর্মীরা এই রাজনীতিবিদকে দেখার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল।

আদালতের রায়ের এই বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লিসু। তাকে কারাগারে আটকে রাখার আদালতের আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলেও আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার সুরক্ষার আদেশগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হচ্ছে।

আসন্ন এই অনশন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রসঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ কিংবা তানজানিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লিসু তানজানিয়ার প্রধান বিরোধী দল চাদেমার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি গত ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে, যেটিতে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

এর আগে ২০১৭ সালে এক হত্যাচেষ্টার শিকার হয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এই বিরোধী নেতা। সে সময় তাকে ১৬ বার গুলি করা হয়েছিল। সাধারণ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর গত বছরের ৯ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিনই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়।

এর আগে গত বছরের মে মাসেও আদালতে সশরীরের পরিবর্তে অনলাইনে হাজিরা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার প্রতিবাদে অনশন করেছিলেন তিনি। বর্তমান মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

banner
Link copied!