সোমবারে সন্ধ্যার দিকে নিয়ালা শহরের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় একুশ জন নিহত ও অন্তত চল্লিশ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে নিয়ালার উত্তর অংশের একটি বাজারে এই হামলা চালানো হয়। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের তরুণ যোদ্ধারা প্রায়ই হামলার শিকার ওই বাজারে যাতায়াত করতেন।
নিয়ালা হাসপাতালের এক চিকিৎসক বোমা হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তবে হতাহতদের মধ্যে ঠিক কতজন আধা সামরিক বাহিনীর যোদ্ধা ছিলেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
পশ্চিম দারফুর অঞ্চলে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের কার্যত রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিয়ালা। খার্তুমভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরোধিতায় এই আধা সামরিক গোষ্ঠী সেখানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন গঠন করেছে।
সুদানের সামরিক বাহিনী ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী নিয়মিত নিয়ালা শহরে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে।
সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ড্রোন যুদ্ধের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে এবং উভয় পক্ষই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উন্নত আকাশপথে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় প্রায়ই প্রতিটি ঘটনায় বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হচ্ছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কেবল অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে ড্রোন হামলায় তিনশতের বেশি মানুষ নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে চলমান যুদ্ধে দুই লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে অনুমান ত্রাণকর্মীদের। এই যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি করেছে।
