মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

সুদানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি

সুদানে তীব্র দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

সুদানে তীব্র দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

সুদানে খাদ্য নিরাপত্তার দ্রুত অবনতি ঘটছে বলে গত সোমবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরও ৩০টি দেশ। আফ্রিকার এই যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রে সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ রোধে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশ করা এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো সুদানের গৃহযুদ্ধে লিপ্ত পক্ষগুলোকে সব ধরনের মানবিক সহায়তা বাধা থেকে মুক্ত করার তাগিদ দিয়েছে। আসন্ন মাসগুলোতে দেশটিতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটির প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

সুদানবাসীর এই চরম দুর্ভোগ লাঘবের প্রধান দায়িত্ব সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোর ওপরই বর্তায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনারসহ ২৮টি ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন।

সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। দুই বাহিনীর একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধের জেরে রাজধানী খার্তুমে সংঘর্ষ শুরু হলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।

এই সংঘাতে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন। ফলে বর্তমান বিশ্বে এটিই সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতির সংকটে রূপ নিয়েছে।

জাতিসংঘ সমর্থিত ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা বা আইপিসি গত জুন মাসে জানিয়েছিল যে সুদানের ৫১ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি রয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকেই কৃষকরা ফসল তুলতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন।

সংস্থাটি আরও জানায় যে এল নিনো সংশ্লিষ্ট খরার কারণে চলতি বছর খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

যৌথ বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে যে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তীব্র পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুর সংখ্যা নির্ধারিত ৮ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে সব সীমান্ত ও যুদ্ধক্ষেত্রের রুট দিয়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে দারুফুর অঞ্চলে আকাশপথে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

পাশাপাশি সমগ্র সুদানজুড়ে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা ও উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সব সদস্যকে জরুরি ভিত্তিতে তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জোটটি। গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে সুদানের সেনাবাহিনী কিংবা র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস—কোনো পক্ষই দেশটির বৈধ সাংবিধানিক শাসন প্রতিনিধিত্ব করে না।

banner
Link copied!