মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা

উপকূলের দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্নাবের অগ্রযাত্রা: হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

উপকূলের দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্নাবের অগ্রযাত্রা: হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার পর কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অর্নাব সোমবার থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং বুধবার সকালে তা উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত তীব্র এই ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বৃহত্তম বন্দর শহর বিশাখাপত্তনমের ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। বঙ্গোপসাগরের ওপর এই ঝড়টি সৃষ্টি হয়েছে, যা ভারতের পূর্ব উপকূলে নিয়মিত আঘাত হানতে থাকা ক্রান্তীয় ঝড়গুলোর একটি পরিচিত উৎপত্তিস্থল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে উপকূল অতিক্রম করবে। এ সময় ঝড়ের একটানা বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়টি উত্তর দিকে অভ্যন্তরে প্রবেশ করার সময় এর সম্ভাব্য পথের পাশেই ১ কোটি ২০ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন। শুধু অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেই সোমবার রাতের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দাকে নির্দিষ্ট আশ্রয়নকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখর জৈন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেশী ওড়িশার কর্মকর্তারাও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং বিপদজনক এলাকাগুলো থেকে ৪৮ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

আবহাওয়া পরিস্থিতির এই চরম অবনতির কারণে পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রুটে অন্তত ১২টি ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। পরিবহন কর্মকর্তারাও মঙ্গলবার ও বুধবারের জন্য দক্ষিণ উপকূলের ৫৩টি রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত রেখেছেন।

দেশের অভ্যন্তরে আরও দূরে নেপালের কর্তৃপক্ষ উচ্চ উচ্চতার অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবারের মধ্যে এই ঝড়ো ব্যবস্থার কারণে হিমালয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, তীব্র তুষারঝড় এবং বিপজ্জনক তুষারধস হতে পারে। হিমালয়ের এই সতর্কবার্তার আগে গত আগস্ট মাসে নেপাল জুড়ে আকস্মিক বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

banner
Link copied!