মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

সুদান সংকট

এল ফাশেরের অবরোধে গণহত্যা চলেছে: দাবি সুদানি দূতের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

এল ফাশেরের অবরোধে গণহত্যা চলেছে: দাবি সুদানি দূতের

গত মঙ্গলবার নিজের দেশের সংঘাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সুদানের এক বিশেষ দূত। আঙ্কারার পলিটিক্যাল, ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী বাহিনীকে মদদ দেওয়ার এবং সংকট সমাধানের পথ আটকে রাখার অভিযোগ তোলেন।

তিনি দাবি করেন যে, দারফুরের এল ফাশের শহরে ঘটিত সহিংসতা এবং নৃশংসতা স্পষ্টতই গণহত্যার শামিল। গত প্রায় ৩০ মাস ধরে চলা এল ফাশেরের নির্মম অবরোধ ভাঙতে সরকারি বাহিনী দুইশবারেরও বেশি সামরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সুদানি সশস্ত্র বাহিনীর সরবরাহ করা আকাশপথে নিক্ষিপ্ত ত্রাণের ওপর নির্ভর করে ওই এলাকার প্রায় দশ লাখ মানুষ কোনোমতে বেঁচে ছিলেন। খাদ্যাভাব এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে শেষ পর্যন্ত মানুষ গাছের ছাল ও পাতা খেতে বাধ্য হয়েছিল বলে তিনি জানান।

বাইরের দেশগুলোর প্রত্যক্ষ সমর্থন না থাকলে বিদ্রোহী যোদ্ধারা কখনো এতদূর এগোতে পারত না বলে মন্তব্য করেন ওই দূত। সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, শহরের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু উপজাতিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের কারণে সুদান সরকার জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলে এসব হত্যাযজ্ঞের প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন। আমিরাত ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন জোগাচ্ছে বলেও তার অভিযোগ।

উত্তর দারফুরের রাজধানী এল ফাশের শহরটি গত ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দীর্ঘ মেয়াদি অবরুদ্ধ অবস্থা এবং ২০২৪ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর শহরটির পতন ঘটে।

দারফুর অঞ্চলে সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সর্বশেষ বড় ঘাঁটি ছিল এই এল ফাশের। আধাসামরিক বাহিনীর দখলের পর সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আধাসামরিক বাহিনী শহরটি দখলের পর প্রথম তিন দিনের হামলায় ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। সাধারণ মানুষের ওপর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং যৌন সহিংসতার ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া যায়।

নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে চালানো সহিংসতা এখনো থামেনি বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। গত ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এল ফাশের ও আশপাশের জনপদগুলো থেকে প্রায় এক লাখ আটত্রিশ হাজার দুশো মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা দশ লাখের বেশি থাকলেও বর্তমান প্রাক্কলন অনুযায়ী সেখানে সাকুল্যে সত্তর হাজারের কম বাসিন্দা টিকে আছেন। গোটা অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত খাবারের প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সীমিত থাকায় দারফুরজুড়ে মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনুষ্ঠানে সুদানকে নিরন্তর সমর্থন দেওয়ার জন্য তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন ওই সুদানি দূত।

banner
Link copied!