শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কোরীয় উপদ্বীপ

চীন সফর: নতুন সেতু দিয়ে ডান্দংয়ে পৌঁছালেন কিম জং উন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

চীন সফর: নতুন সেতু দিয়ে ডান্দংয়ে পৌঁছালেন কিম জং উন

দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের খবর অনুযায়ী, শনিবার চীনের সীমান্তবর্তী শহর ডান্দংয়ে পৌঁছান উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। প্রতিবেশী এই দুই দেশকে সংযোগকারী একটি নতুন প্রধান সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পরই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ইয়োনহাপ জানিয়েছে, নতুন ইয়ালু নদী সেতু দিয়ে এদিন সকালেই ডান্দংয়ে প্রবেশ করেন কিম। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চার লেনের এই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল ২০১৪ সালে। তবে উত্তর কোরিয়া অংশে সংযোগ সড়ক ও কাস্টমস সুবিধার অভাবে সেতুটির চালুকরণ দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিলম্বিত হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম।

চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং পিয়ংইয়ংকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে। এর আগে গত জুন মাসে বেইজিংয়ে বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর পিয়ংইয়ংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন কিম।

ওই সময় পিয়ংইয়ং ও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কিত কোনো উল্লেখ ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুপস্থিতি আসলে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের বিষয়ে চীনের নীরব সম্মতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

কিমের এই চীন সফর এমন এক সময়ে হলো যখন ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি রাজনৈতিক বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বেইজিংয়ে। আগামী সোমবার পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শীর্ষ চীনা কর্মকর্তাদের।

এদিকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া তাদের প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করার ঠিক পরপরই এই নতুন সেতুটি চালু হলো। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মস্কোর অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পিয়ংইয়ং, যেখানে সামরিক প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে রাশিয়া সেনা পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

কিমের চীন পৌঁছানোর খবর প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তাদের সর্বোচ্চ নেতা সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পিয়ংইয়ংয়ে কোম্পানির কমান্ডারদের দুই দিনব্যাপী এক বৈঠকে এই আহ্বান জানান কিম।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের সংঘাত কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ না হয়ে কেবল যুদ্ধবিরতিতে শেষ হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। সীমান্ত স্পষ্ট করা এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলো পুনরুদ্ধার করার জন্য গত শুক্রবার সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়ার সৈন্যদের আহত করার মতো একটি বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনকে দায়ী করেছে সিউল, যদিও পিয়ংইয়ং এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। আলোচনার সর্বশেষ এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো উত্তর দেয়নি উত্তর কোরিয়া।

banner
Link copied!