বুধবার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন এডেনের গভর্নর আব্দুল রহমান শেখ। একটি রুটিন পরিদর্শনের কাজ শেষ করে বিমানবন্দর ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরেই এর কাছাকাছি এলাকায় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।
একই সঙ্গে ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতির মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী শেখ বিমানবন্দরের রানওয়ে মেরামতের কাজ পর্যালোচনা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি শহরের অন্যান্য স্থান পরিদর্শনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি চালিয়ে যান।
আশরাক আল-আওসাত পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ জানান যে তিনি বিমানবন্দর সংস্কারকাজের তৃতীয় পর্যায় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সৌদি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন প্রোগ্রাম ফর ইয়েমেন এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে এবং এর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বিস্ফোরণের পরও গভর্নর তার নির্ধারিত কর্মসূচি থেকে সরে আসেননি। তিনি শহরের বিভিন্ন জনসেবামূলক প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং একাধিক নিরাপত্তা বিভাগ ঘুরে দেখেন।
২০১৫ সালে যুদ্ধ ও হুথি অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানীর কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের হুমকি দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। জনসেবা সচল রাখা এবং পুনর্গঠন কাজ এগিয়ে নেওয়ার জরুরি প্রয়োজনের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তার ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
শেখ উল্লেখ করেন যে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে পরিদর্শনস্থলে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান না করা এবং দাপ্তরিক চলাচলের বিষয়টি গোপন রাখা।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এডেনসহ অন্যান্য প্রদেশে হুথিদের বেশ কয়েকটি সুপ্ত সেল বা গোপন আস্তানা ধ্বংস করেছে। শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান শেখ।
গভর্নর দৃঢ়তার সাথে বলেন যে এ ধরনের হামলা ইয়েমেনের জনগণকে তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। এডেনের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা সহিংসতা দিয়ে থামানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জরুরি সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে গিয়ে এডেনকে তীব্র চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। রান্নার গ্যাসের সংকট, বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর প্রচণ্ড চাপ এবং ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন চাহিদার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে শহরটি।
মৌলিক পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে বর্ণনা করেন শেখ। মারিব প্রদেশ থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং চাহিদা বৃদ্ধিকেই রান্নার গ্যাসের সংকটের জন্য দায়ী করেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করাও জরুরি।
ইয়েমেনের জন্য সৌদি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন প্রোগ্রাম, যৌথ বাহিনী এবং কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের সহযোগিতার প্রশংসা করেন শেখ। নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
চলমান নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের তদারকি এবং জরুরি সেবা সচল রাখার কাজ অব্যাহত রাখবে।
