গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো জাপান সফরে গেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রহমান। দ্বিপক্ষীয় নতুন চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের আগে মঙ্গলবার একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দুই নেতা।
বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছে টোকিও ও ঢাকা। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের পক্ষ থেকে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদার এবং একটি প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালে দেশ দুটি তাদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে উদ্ভূত অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে বর্তমানে জাপান থেকে বিনিয়োগ ও স্বল্পসুদে ঋণ চাইছে বাংলাদেশ।
বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি রহমানকে জানান যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাবলম্বন জোরালোভাবে সমর্থন করবে জাপান। আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে জাপান উন্মুখ হয়ে আছে বলেও যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশে সুযোগ অন্বেষণ করতে জাপানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান রহমান। দুই দেশের এই অংশীদারত্ব দশকজুড়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ চেইনে সহযোগিতা আরও প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। অনিশ্চিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
চলতি মাসের শুরুতে আগামী এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরুর একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই সরকার। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাপানি শ্রমবাজারে প্রবেশকারী বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
আঞ্চলিক বিষয়ে মিয়ানমারের পরিস্থিতির অবনতি এবং এর ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। তারা জানান, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান হলো বাস্তুচ্যুত মানুষের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দুই নেতা। তারা অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন এবং অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী জরুরিভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য লোহিত সাগর এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালীর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশলগত গুরুত্বও স্বীকার করেন তারা।
