ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সংস্থায় তথ্যের অবাধপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। ১৫টি গণমাধ্যম ও প্রেস ফ্রিডম সংগঠনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এই চিঠি পাঠানো হয়।
গাজার অবকাঠামো নিয়ে তথ্য আটকে রাখার যে নীরব সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন সংগঠনগুলো। মূলত সাংবাদিকদের জনস্বার্থের খবর সংগ্রহে যে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ওম্বডসম্যান তেরেসা আনজিনহো গত সপ্তাহে এ বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করার পরই মূলত এই আবেদন করা হয়। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইইউর অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়ে ১৭টি নথিপত্র প্রকাশে কমিশনের অস্বীকৃতির বিরুদ্ধে এক সংবাদমাধ্যমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম এই ফাইলগুলোর জন্য আবেদন করেছিল সংবাদমাধ্যম ইইউঅবজারভার। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে গড়া অবকাঠামো ঠিক কতখানি ধ্বংস হয়েছে, তা তদন্তের অংশ হিসেবেই ওই আবেদন করা হয়েছিল।
তবে সে সময় তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল কমিশন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে তথ্য প্রকাশের পক্ষে জোরালো কোনো জনস্বার্থ নেই এবং সংবাদমাধ্যমের করা পরবর্তী আপিলেরও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।
আসছে ৪ নভেম্বরের মধ্যে এই আপিলের বিষয়ে কমিশনকে জবাব দিতে বলেছেন আনজিনহো। ইইউর এই নির্বাহী সংস্থা যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ওম্বডসম্যান নিজেই ওই নথিপত্রগুলো যাচাই করে দেখবেন।
চলমান এই তদন্তের সময় কমিশনকে আরও বেশি স্বচ্ছতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ১৫টি সংগঠন। তাদের ভাষ্যমতে, সাংবাদিকরা তথ্য পেতে প্রায়ই দীর্ঘসূত্রিতা, অযৌক্তিক অস্বীকৃতি এবং নথিপত্রের গোপনীয়তার মুখে পড়েন, যা প্রকাশিত তথ্যকে অর্থহীন করে তোলে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে কমিশন অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে আর্কাইভ করতে ব্যর্থ হয়। স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলোর মতে, এই ধরনের বিধিনিষেধের কারণে জনস্বার্থের বড় বড় বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি ব্যাহত হচ্ছে।
করোনা মহামারীর পর পুনরুদ্ধার তহবিলের হাজার হাজার কোটি ইউরো ইইউ সদস্য দেশগুলো কীভাবে খরচ করেছে এবং অস্ত্র গবেষণায় ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা কেমন ছিল, এমন বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে পুরো ইউরোপজুড়ে জনআলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলে চিঠিতে যোগ করা হয়।
কমিশনকে তাদের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী বিধি বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাক্ষরকারীরা। তাদের মতে, এই নিয়মগুলোর কারণে নথিপত্র হাতে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে গেছে এবং ইইউর নথিগুলোতে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত প্রবিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তি সহজ করতে নতুন একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নেরও অনুরোধ জানিয়েছে দলগুলো। এই পরিকল্পনার মধ্যে ইউরোপীয় ওম্বডসম্যানের সুপারিশ বাস্তবায়ন, ইউরোপীয় আদালতের রায় পুরোপুরি মেনে চলা এবং নথি সংরক্ষণ ও আর্কাইভ করার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার যে সুনাম বজায় রেখেছিল, তা এখন হুমকির মুখে পড়েছে বলে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে। এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ইইউঅবজারভার, ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস, ফলো দ্য মানি, ফরবিডেন স্টোরিজ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস, ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট, ইনভেস্টিগেট ইউরোপ এবং পেন ইন্টারন্যাশনাল।
