ইসরায়েলি বাহিনী মঙ্গলবার হেব্রোন ও এর পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। দক্ষিণ পশ্চিম তীরের এই গভর্নরেটে কঠোর সামরিক লকডাউনের এটি টানা ষষ্ঠ দিন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মধ্যরাতের দিকে সামরিক ইউনিট ও বর্মযুক্ত যানগুলো শহরের দক্ষিণের বেশ কয়েকটি শহর এবং আল-ফাওয়ার শরণার্থশিবিরে প্রবেশ করে। রাতের এই অভিযানে সৈন্যরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়।
একই সময়ে সামরিক বাহিনী হেব্রোনে প্রবেশকারী সব পথের বিধিনিষেধ আরও জোরদার করে। আল-জালাদাহ চত্বরের কাছের চেকপোস্টে মোতায়েন সৈন্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।
গত শুক্রবার দুই ফিলিস্তিনির হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং অপর তিনজন আহত হওয়ার পর এই বর্তমান সামরিক আক্রমণ শুরু হয়। এর পরপরই সেনাবাহিনী উভয় হামলাকারীকে হত্যা করে।
হেব্রোন পৌরসভা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই অভিযানের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। কর্মকর্তারা জানান, শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে চার হাজার ৯৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে ৭৮০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই অঞ্চলজুড়ে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে। স্বাধীন বেসরকারি সংস্থা ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি জানিয়েছে, সৈন্যরা গত শুক্রবার থেকে সোমবারের মধ্যে হেব্রোন গভর্নরেট থেকে ৮৫ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।
পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমজুড়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা এবং সহিংসতার একটি বৃহত্তর উত্তেজনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এই বৃহত্তর অভিযান আরও তীব্র হয়েছে।
