শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সুদান জ্বালানি সংকট

উত্তর সুদানের শহরে ড্রোন হামলা: বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

উত্তর সুদানের শহরে ড্রোন হামলা: বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন

সুদানের রিভার নীল রাজ্যের একটি শহরে গত শুক্রবার ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তুতে ধোঁয়া উড়তে দেখেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিকারকর্মীদের শেয়ার করা ভিডিওতে ওই স্থাপনায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

এই ঘটনা নিয়ে সুদানের কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি এবং ক্ষতির পরিমাণও জানায়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট নীল রাজ্যের উম্ম দাবাকির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দক্ষিণ কর্ডোফান রাজ্যের কাদুগলি বিদ্যুৎকেন্দ্রে একই ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।

গত বুধবার মধ্যাঞ্চলীয় গেজিরা রাজ্যের মানগিল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রোন আঘাত হানে, যার ফলে পুরো শহর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

এর আগের দিন সুদানের জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় খার্তুম ও রিভার নীলসহ একাধিক রাজ্যে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা জানায়, যা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অকার্যকর হওয়ার ফলে ঘটেছিল।

মন্ত্রণালয় এই হামলাগুলোর জন্য আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে দায়ী করেছে।

গত সোমবার সুদান ইলেকট্রিসিটি হোল্ডিং কোম্পানির পক্ষ থেকেও সেনার, গেদেফ ও গেজিরা রাজ্যের পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলার জন্য একই বাহিনীকে অভিযুক্ত করা হয়।

মানবাধিকার সংস্থা ও সুদানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আধা সামরিক বাহিনীটির বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ করে আসছে।

র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস সাধারণত এসব অভিযোগের জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকে এবং তাদের অভিযান বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য পরিচালিত হয় বলে দাবি করে।

সুদান সেনাবাহিনী এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যকার এই সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে।

দেশের সামরিক বাহিনীগুলোকে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধের জেরে এই যুদ্ধ শুরু হয়।

এই যুদ্ধের ফলে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট ও চরম খাদ্য ঘাটতি তৈরি করেছে।

banner
Link copied!