অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে একটানা অষ্টম দিনের মতো সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রচুর সেনা ও সাঁজোয়া যান নিয়ে জিলাদা এবং আইন দেইর বাহা পাড়ায় এই অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইন দেইর বাহা পাড়ায় অভিযানের অংশ হিসেবে ডজনখানেক বাসিন্দাকে জোরপূর্বক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছে দখলদার সেনা। গত ২৩ অক্টোবর হেবরনের উত্তর-পশ্চিম প্রবেশদ্বারের ফার্শ আল হাওয়া এলাকায় এক বন্দুক হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর এই নতুন সামরিক আগ্রাসন শুরু হয়।
ওই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করার পর থেকেই পুরো শহরে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামলার জন্য অভিযুক্ত আহমাদ ও হামুদা আল জাবার পরিবারের বাড়িগুলোর আশপাশে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।
সেনাবাহিনী আল জাবা পরিবারের দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালায়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঘরগুলোর ভেতর থেকে খোঁড়াখুঁড়ির শব্দ শোনা গেছে, তবে তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কারণ বা বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
জিলাদা গোলচত্বরের কাছের সামরিক চেকপোস্টে ফিলিস্তিনিদের আটকে রাখার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সেনাসদস্যরা সাধারণ মানুষের ওপর তল্লাশি চালায় এবং চেকপোস্টে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।
হেবরন পৌরসভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সামরিক আগ্রাসনের কারণে ৭০০৮০ পরিবারের মোট ৪ হাজার ৯৬৯ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলমান এই অভিযানে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ, ঘরবাড়ি ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং স্থানীয় অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনকে সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করে এবং সেগুলোর ওপর নিজেদের পতাকা উড়ায়। ফিলিস্তিনি বন্দি সমাজ জানিয়েছে, অভিযানের শুরু থেকে বুধবার পর্যন্ত পুরো প্রদেশ থেকে মোট ১১০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।
পূর্ব জেরুজালেমসহ সমগ্র পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা ও সহিংসতার অংশ হিসেবেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই এই সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
অধিকৃত এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও আটক করা, বাড়িঘর ও স্থাপনা ধ্বংস করা, মসজিদে ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা এবং কৃষিজমি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এছাড়া অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষকদের তাদের জমিতে যেতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
