গত মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় সাত বছরের এক শিশুসহ তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এদিন গাজার বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, আর্টিলারি শেলিং ও তীব্র গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা জানান, খান ইউনিসের পশ্চিমে বীর ১৯ এলাকায় হামলার পর তারা দুটি মৃতদেহ এবং ওই শিশুটির মরদেহ পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি ড্রোন বেশ কয়েকটি হামলা চালায়।
এই ড্রোন হামলায় এক তরুণ নিহত এবং চারজন আহত হন। এরপর ইসরায়েলি সামরিক যানগুলো বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্পের দিকে তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং কাছাকাছি এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষ বেধে যায়।
এই দ্বিতীয় দফার গুলিবর্ষণের সময় আরও এক তরুণ এবং ওই সাত বছরের শিশুটি নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটিকে সরাসরি তার তাঁবুর ভেতর গুলি করা হয়।
একই সময়ে ইসরায়েলি আর্টিলারি বাহিনী খান ইউনিসের পূর্ব দিকের বিভিন্ন অংশে শেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে অবস্থান নেওয়া বর্মযুক্ত যানগুলোও একটানা ভারী গুলিবর্ষণ চালিয়ে যায়।
উত্তরাঞ্চলের দিকে দেইর আল-বালাহের পূর্বে অবস্থিত আরদ আল-শাওয়া এলাকায় গুলিতে মাঝারি আহত হন এক ফিলিস্তিনি নারী। তীব্র গোলাগুলির আড়ালে সেখানে ইসরায়েলি সামরিক যানগুলোর সীমিত অগ্রগতির কথা জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
উত্তর গাজায় আর্টিলারি ইউনিটগুলো গাজা সিটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইয়েলো লাইনের পেছনে অবস্থান নেওয়া ট্যাংকগুলো শেজাইয়া ও তুফফাহ এলাকার কাছাকাছি এলাকায় গোলাবর্ষণ করে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্বে ইসরায়েলি বাহিনী যেখানে পিছিয়ে এসেছিল, সেই সীমানাকেই ইয়েলো লাইন বলা হয়, যা সামরিক নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলকে বেসামরিক এলাকা থেকে আলাদা করেছে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী উপত্যকাজুড়ে প্রতিদিনের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এসব চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় অন্তত ১,৫৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫,৫৭৩ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা বৃহত্তর সংঘাতে ৭৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৭৫,০০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
