মার্কিন মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অব্যাহতভাবে লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি জেলায় নতুন করে বিমান ও কামান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
নাবাতাইয়া জেলার শৌকিন ও মাইফাদুন শহরের মধ্যবর্তী একটি আবাসিক ভবনে দুটি বোমা বর্ষণ করে একটি মনুষ্যবিহীন ড্রোন। তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
জাতীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাইফাদুন এলাকার উপকণ্ঠে আল-সাওয়ান অঞ্চলেও দফায় দফায় আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করে ইসরায়েল। এছাড়া টায়ার জেলার মনসুরি এলাকাতেও আরেকটি হামলা চালানো হয়।
পূর্ব জাওতার আল-শারকিয়া এলাকার আল-রুওয়াইস পাড়ায় দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিভাইস নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণ ঘটায় ইসরায়েলি সেনারা। নিয়ন্ত্রিত এই বিস্ফোরণ সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
একইভাবে মার্জায়ুন জেলার ওয়াদি আল-সালুকি অঞ্চলের কানতারা এলাকার উপকণ্ঠেও একটি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।
এদিকে টায়ার জেলার দেইর কিফা মোড়ে একটি সন্দেহজনক বস্তু বিস্ফোরিত হলে স্ক্র্যাপ সংগ্রাহক এক ব্যক্তি আহত হন। তবে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ২৬ জুন লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। ওই চুক্তিতে দখলকৃত লেবাননীয় ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের ক্রমান্বয়ে সেনা প্রত্যাহার, লেবানন সেনাবাহিনীর মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।
কূটনৈতিক সমঝোতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ হয়নি। গত ২ মার্চ থেকে চলা এই সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৪,৩৮৬ জন নিহত এবং ১২,৪০৭ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশের দখল বজায় রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে কিছু এলাকা গত কয়েক দশক ধরে এবং কিছু এলাকা ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় দখল করা হয়। সাম্প্রতিক তীব্র সংঘাতের সময় স্থলবাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছিল।
