মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় যুদ্ধাপরাধ

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ চলছে: জাতিসংঘের কমিশনের দাবি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৮:০০ এএম

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ চলছে: জাতিসংঘের কমিশনের দাবি

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কমিশনের চেয়ার শ্রীনিবাসন মুরালিধরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই মোট মৃত্যুর মধ্যে অন্তত ২১ হাজার ৫০০ শিশু এবং ১১ হাজার নারী রয়েছেন।

,

মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মুরালিধর। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সফরের ভিসা পেতে ব্যর্থ হন তিনি এবং পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

,

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার হলুদ রেখার কাছাকাছি যাওয়া বা তা অতিক্রম করা শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা ও হত্যা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রতিদিনের আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

,

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী ওই সব হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৬৩ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী পুরো উপত্যকাজুড়ে এই লঙ্ঘনগুলো বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

,

এছাড়াও দখলকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটেছে। ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং দখলদারদের সহিংসতা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সুসংগঠিত আক্রমণের অংশ বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।

,

এই কর্মকাণ্ডের পেছনে বেশ কিছু মূল উদ্দেশ্য চিহ্নিত করেছে প্রতিবেদনটি, যার মধ্যে রয়েছে বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল এবং অধিবাসীদের উচ্ছেদ করা।

,

পশ্চিম তীরে ইসরায়েল মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে জানিয়েছে কমিশন। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে নির্বিচার হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য যৌন সহিংসতার ঘটনা।

,

তদন্তকারীরা আরও দেখতে পেয়েছেন যে ফিলিস্তিনি শিশুরা তাদের বয়সের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ, পরাধীন করতে এবং তাদের সমাজকে অস্থিতিশীল করতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ব্যবহার করা হচ্ছে।

,

প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বাড়িয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী।

,

পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডগুলোর কোনো কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।

,

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুরালিধর। বসতিগুলো খালি করতে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পথে সব বাধা দূর করতে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

,

দখলদারিত্ব ও বসতি টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে এমন রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক বা আর্থিক সহায়তা প্রদান বন্ধ করতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও এর কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি দিতে এবং আদালতকে সমর্থন জোগাতে রাষ্ট্রগুলোকে সব ধরনের উপায় ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

banner
Link copied!