সপ্তমতম ব্যালন ডি অর অনুষ্ঠানে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননা অর্জন করেছেন হ্যারি কেইন ও আলেক্সিয়া পুতেয়াস।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে এই জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। মর্যাদাপূর্ণ এই ফুটবল পুরস্কারের ইতিহাসে এই প্রথম ব্রিটিশ রাজধানীতে মূল আসর বসল।
নিজের বর্ণিল ক্যারিয়ারে এই প্রথম ব্যালন ডি অর জিতলেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৬৫ ম্যাচ খেলে ৭৩ গোল করেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এর মধ্যে কেবল বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করে জার্মান ক্লাবটিকে অভ্যন্তরীণ ডাবল শিরোপা জেতাতে ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া ২০২৬ সালের বিশকাপে ছয় গোল করে ইংল্যান্ডকে প্রতিযোগিতার তৃতীয় স্থান অর্জনে নেতৃত্ব দেন দলটির অধিনায়ক।
ভোটাভুটিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। আর তৃতীয় স্থান পান বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
পঞ্চম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার গৌরব অর্জন করলেন কেইন। এর আগে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন স্ট্যানলি ম্যাথিউস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান এবং সর্বশেষ ২০০১ সালে পুরস্কার জেতা মাইকেল ওয়েন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন পারি সাঁ জার্মাঁর খেলোয়াড় উসমান দেম্বেলে।
নারী বিভাগে নিজের তৃতীয় ব্যালন ডি অর জিতেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালেও এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এর মাধ্যমে বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ আইতানা বোনমাতির রেকর্ডে ভাগ বসালেন তিনি।
পুতেয়াসের অধিনায়কত্বেই ২০২৫-২৬ মৌসুমে চারটি শিরোপা জেতে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ ক্লাবটি এই মৌসুমে লিগা এফ, কোপা দে লা রেইনা, স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিজেদের করে নেয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি স্পেনকে নারী নেশনস লিগ জেতাতেও অবদান রাখেন তিনি। বার্সেলোনা অধ্যায় শেষ করে গত জুলাইয়ে লন্ডন সিটি লায়োনেস ক্লাবে যোগ দেন পুতেয়াস।
পুরুষ বিভাগে টানা তৃতীয়বারের মতো বর্ষসেরা তরুণ প্রতিভার পুরস্কার জেতেন লামিনে ইয়ামাল। অন্যদিকে নারী বিভাগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই সম্মাননা পান ভিকি লোপেস।
স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর স্বীকৃতিস্বরূপ পুরুষ বিভাগে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার পান লুইস দে লা ফুয়েন্তে। আর বার্সেলোনার পেরে রোমেউ নারী বিভাগে বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হন।
অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের উনাই সিমন পুরুষ বিভাগে বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতেন। নারী বিভাগে গোলরক্ষকের এই সম্মাননা পান বার্সেলোনার কাতা কোল।
এর বাইরে পুরুষ বিভাগে বর্ষসেরা স্ট্রাইকার বা গোলদাতার পুরস্কারও উঠেছে হ্যার কেইনের হাতে। অন্যদিকে প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড় হিসেবে নারী বিভাগে বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার জিতেছেন শারলিন কোরাল।
নারী বিভাগে বছরের সেরা ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে বার্সেলোনা এবং পুরুষদের ক্লাব পুরস্কার জিতেছে পারি সাঁ জার্মাঁ। মানবহিতৈষী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সক্রেটিস পুরস্কার পেয়েছেন বুকায়ো সাকা, যার মাধ্যমে তিনি নাইজেরিয়ার কানোতে শিশুদের ১২০টি চিকিৎসা কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছেন।
