বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

উপসাগরীয় শান্তি আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বহুমুখী শান্তি উদ্যোগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১২:০০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বহুমুখী শান্তি উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বহুমুখী শান্তি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার চারদিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া। একইসঙ্গে ইয়েমেনের ভেতরে হুথি আন্দোলনের ভারী বাহিনীগুলোর একটি বড় অংশ প্রত্যাহার করার আহ্বানও জানানো হয়েছে এই উদ্যোগে।

চলমান এই আলোচনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এক্ষেত্রে একটি বড় ছাড়ের প্রত্যাশা করছে এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মতে, এর আওতায় তেহরান জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিতে পারে।

নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক বৈঠকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পরিদর্শকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানান। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নীতিগত আলোচনা করবে।

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা পাওয়ার বিষয়টিকেই প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-মহাসচিব ড. আলী বাঘেরি জানান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রণালীটি পুনরায় চালুর প্রস্তাবিত সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে চার দিনে আনতে প্রস্তুত রয়েছে তাদের দেশ।

ইয়েমেনের সমান্তরাল সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার বিষয়টি স্বীকার করতে শুরু করেছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই গত মঙ্গলবার ইরানে নিযুক্ত হুথি রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আল-দুলাইমির সঙ্গে বৈঠক করেন।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তেহরান সফরের ২৪ ঘণ্টা পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিনিধিদলটি ইয়েমেন সংঘাত অবসানে সৌদির শর্তাবলী এবং অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করে।

হুথিদের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে ইরান এবং তাদের প্রভাবিত করার ক্ষমতাও তেহরানের রয়েছে, যার মধ্যে সামরিক বিজয় অর্জন করে না এমন প্রস্তাবগুলো তৈরি করাও অন্তর্ভুক্ত। এর বিপরীতে, ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলের ওপর থেকে নৌ ও আকাশপথের অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে হুথিরা।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার সময় নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো আলোচনা হতে দেয়নি ইরান। এর পরিবর্তে তেহরান আলোচনাটিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের অংশীদারিত্বে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা রূপরেখার দিকে ঘুরিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস বা সমাপ্ত হবে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হওয়া ইরানের জন্য একটি নতুন অনাগ্রাসন চুক্তি কয়েক দশকের এই দূরত্বের অবসান ঘটাতে পারে। এই পরিণতি তেহরানের সর্বোচ্চ কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করবে এবং সরকারের পক্ষে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কৌশলগত ছাড় দেওয়া সহজ করে তুলতে পারে।

ইরানে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেন আরাগচি। সেখানে তিনি বলেন যে যুদ্ধ হোক বা না হোক, তাদের নীতি অপরিবর্তিত থাকবে।

banner
Link copied!