যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের গাজা নীতির প্রতিবাদে পদত্যাগকারী সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রতি ওই নীতি প্রকাশ্যে বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
গাজা রেসাইনিজ বা গাজা পদত্যাগকারী শিরোনামে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চাকরি ছেড়ে দেওয়া বারোজন সাবেক কর্মকর্তা অংশ নেন। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে মার্কিন সরকারের নিঃশর্ত ও বেআইনি সমর্থনের প্রতিবাদেই তাঁরা দায়িত্ব ছেড়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অর্থ হলো উচ্চপদস্থ অবস্থানে থেকে যারা নীতিগতভাবে ক্ষয়ক্ষতি করেছেন, তাঁদের যেন ভবিষ্যতে আর কখনোই ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ দেওয়া না হয়।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সহায়তাকারী কোনো সাবেক কর্মকর্তাকে নির্বাচনী প্রচারণায় বা প্রশাসনে না রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
জাতিসংঘের বিভিন্ন তদন্ত কমিটি, মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা অতীতে বারবার জানিয়েছেন যে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ৫৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭০ জন আহত হয়েছেন।
২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিজেদের পুরো মেয়াদজুড়ে বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা ও মানবাধিকার কর্মীদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রাশিদা তায়েব এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী ইসরায়েলকে এই সমর্থনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পরও অব্যাহত রয়েছে।
সাবেক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগের প্রশাসনের গাজা নীতির মূল রূপকাররা এখন তাঁদের ভূমিকা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক মনোনীত প্রার্থীদের তিনটি প্রধান শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্র, তহবিল ও কূটনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে গাজায় মার্কিন সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করা এবং নীতির মূল সহযোগীদের প্রশাসনে কোনো জায়গা না দেওয়া।
