মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন: স্মৃতিসৌধ ধ্বংস ও আহত ২

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:০০ এএম

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন: স্মৃতিসৌধ ধ্বংস ও আহত ২

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সোমবার এক দফা সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই আগ্রাসনের সময় সেনাদের হামলায় অন্তত দুজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, বেথলেহেমের কাছে আল-মিনিয়া গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের শারীরিক মারধরের শিকার দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী দুজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে নাবলুসের দক্ষিণে আল-লুববান আশ-শারকিয়া গ্রামে একটি স্মৃতিসৌধ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। নিহত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে নির্মিত এই সৌধটি গ্রামের প্রধান ফটকের কাছে অবস্থিত ছিল।

ধ্বংসযজ্ঞের সময় ফিলিস্তিনের একটি মানচিত্রখচিত প্রদর্শনী বোর্ডও জব্দ করে সেনারা। এছাড়া আল-লুববান আশ-শারকিয়া এবং পার্শ্ববর্তী আস-সাওইয়া গ্রামের বেশ কিছু জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়।

এই দুই গ্রামের প্রধান ফটকগুলো ঝালাই করে সিলগালা করে দেয় দখলদার বাহিনী। বিকল্প হিসেবে বাসিন্দাদের ব্যবহৃত গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলোও বুলডোজার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জেনিনের পশ্চিমে কাফর দান শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, অভিযانকালে একটি বাড়ি ও কয়েকটি দোকান তল্লাশি করে এক তরুণকে ধরে নিয়ে যায় সেনারা।

জেরুজালেম ও তুলকারেমের আশপাশের জনপদগুলোতেও সামরিক তৎপরতা চালানো হয়। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তর-পূর্বে হিজমা শহরের সব প্রবেশপথ এবং বেশ কিছু দোকান বন্ধ করে দেয় সেনারা।

এ সময় রাস্তায় জমে থাকা সাধারণ মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। তুলকারেমের পূর্বে রামিন শহরেও তল্লাশি চালানো হলেও কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

নিকটবর্তী ইক্তাবা উপশহরে সামরিক যানের মহড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ সময় শহীদ চত্বর থেকে একটি ফিলিস্তিনি পতাকা নামিয়ে ফেলে সেনারা।

মাঠপর্যায়ের এই সহিংসতার মধ্যেই অধিকৃত অঞ্চলে সহিংসতার নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। ফিলিস্তিন ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন জানিয়েছে, গত অক্টোবর মাসে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের মোট ৩,১৩৩টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় এই সহিংসতার হার ৫২.৮ শতাংশ বেশি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মোট ঘটনার ১,৭৬৪টি ঘটিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী এবং ১,৩৬৯টি হামলা চালিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা।

মাসটিতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সংখ্যা ছিল ৬৪৭টি, যা অক্টোবরে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।

banner
Link copied!