মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়েমেন সংকট

অবরুদ্ধ তায়েজে ভয়াবহ সংকট: মর্মান্তিক মূল্য দিচ্ছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:০০ এএম

অবরুদ্ধ তায়েজে ভয়াবহ সংকট: মর্মান্তিক মূল্য দিচ্ছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ

চলমান সংঘাতে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত নিষ্ঠুর মূল্য দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণপ্রধান টম ফ্লেচার। মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

অবরুদ্ধ তায়েজ শহরে রাস্তাঘাট বন্ধ রয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফুরিয়ে আসছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস এই শহরে। সেখানে পানির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে অন্তত ৫০ শতাংশ।

এলাকার হাসপাতালগুলোতে জ্বালানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফ্লেচার। তিনি ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আবদুল আজিজ আল-জৌবার সঙ্গে এই সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

মানবিক সহায়তাকারীরা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে উল্লেখ করে ফ্লেচার বলেন, তবে মানুষের চাহিদা আমাদের সাধ্যের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের দাবি স্পষ্ট। রাস্তাগুলো খুলে দিন এবং ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের সুযোগ দিন। যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা যাবে না।

এদিকে ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের কর্মী মোহাম্মদ আল শামির মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফ্লেচার। হুথিদের হেফাজতে মারা যান আল শামি।

ফ্লেচারের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের ৭০ জন কর্মী এবং অন্যান্য সংস্থার বহু ত্রাণকর্মী এখনও কারাবন্দি রয়েছেন। তারা কোনো দরকষাকষির বস্তু নন। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।

মোহাম্মদ আল শামি জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ৬ জুন থেকে তাকে নির্বিচারে আটক করে রেখেছিল হুথি গোষ্ঠী।

হুথিদের হেফাজতে মারা যাওয়া দ্বিতীয় জাতিসংঘকর্মী ছিলেন আল শামি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির স্থানীয় কর্মী আহমেদ বাআলাবিকে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে উত্তর ইয়েমেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে আটকে রেখেছিল এবং ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।

২০১৪ সাল থেকেই ইয়েমেন গভীর সংঘাতে জর্জরিত। ওই বছর হুথি বাহিনী রাজধানী সানা দখল করে নেয়, যার ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা করতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়।

এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এখনও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

banner
Link copied!