মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক হামলা: কেঁপে উঠল ইরানের কেশম দ্বীপ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৯:০০ এএম

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক হামলা: কেঁপে উঠল ইরানের কেশম দ্বীপ

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে সোমবার গভীর রাতে দেশটির কেশম দ্বীপে পরপর কয়েকটি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এই দ্বীপটির ওপরের আকাশে দুটি বিমান উড়তে দেখেছেন দক্ষিণ উপকূলের প্রত্যক্ষদর্শীরা। আধা সরকারি ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে কাছের বন্দর লেঙ্গেহ শহরেও সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ আসতে শোনা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে এই বিস্ফোরণগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ফল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে কৌশলগত এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযানে ফেরার ইঙ্গিত এড়িয়েই এই অভিযান গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ওই কর্মকর্তার মতে মার্কিন সম্পদের বিরুদ্ধে সারফেস টু এয়ার মিসাইল ব্যবহারকারী ইরানিদের ওপর বিশেষভাবে এই অভিযান চালানো হয়। ফক্স নিউজ ও এক্সিওসের প্রতিবেদক জানিয়েছেন সোমবারের শুরুতে মার্কিন বিমানে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের গুলিবর্ষণের সরাসরি প্রতিক্রিয়া ছিল এই পদক্ষেপ।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদক জেনিফার গ্রিফিন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানান যে এই ঘটনা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিস্তৃত হামলার সূচনা নয়। এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সোমবারের আগেই আইআরজিসি দাবি করেছিল যে তারা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে কেশম দ্বীপের দক্ষিণ দিক থেকে দুটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটক করেছে এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকে একটি এমকিউ নাইন ড্রোন ধ্বংস করেছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন এই হামলার ঘটনা ঘটে যেখানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করছে রিপাবলিকান পার্টি। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর তীব্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গেই এই সময় মিলে যায়। সোমবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখা এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে তেলের দাম কমছে কারণ মানুষ মনে করছে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে। তিনি যোগ করেন তেহরান যত দ্রুত সম্ভব একটি সমঝোতা চায়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে হামলার কথা বিবেচনা করছেন কি না সোমবার সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে না সূচক উত্তর দেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টের দিকে এবং তেহরান শান্তির জন্য তাদের দাবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

বাঘায়ি জানান ওয়াশিংটন নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনা ইরান সংক্ষেপিত করেছে। ওই শর্তগুলোর মধ্যে ছিল ইরানি বন্দরগুলোর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং শত্রুতার অবসান নিশ্চিত করা যা প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করার পথ প্রশস্ত করবে।

banner
Link copied!