মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আফগান নাগরিক বহিষ্কার

আফগানদের নির্বাসন বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আহ্বান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:০০ এএম

আফগানদের নির্বাসন বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ জন আইনপ্রণেতা দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আফগান নাগরিকদের পরিকল্পিত গণবহিষ্কার স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই তালিকায় এমন কিছু মানুষও রয়েছেন, যারা ২০২১ সালে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের আগে আফগানিস্তানে জোট বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন।

সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে আইনপ্রণেতারা মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে জানান যে মঙ্গলবার থেকে অন্তত ১৫০ জন আফগান নাগরিককে বহিষ্কার করার কথা রয়েছে। এই ব্যক্তিদের লুইজিয়ানার আটক কেন্দ্রগুলো থেকে প্লেনে করে পাকিস্তানে পাঠানোর কথা ছিল।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা আদালতের নথিতে বলেছেন যে তারা পরবর্তীতে এই আফগানদের কিছু অংশকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে ২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে তালেবানের শাসনাধীন আফগানিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান মার্কওয়েইন মুলিনের কাছে পাঠানো চিঠিতে আইনপ্রণেতারা লিখেছেন, পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক একটি দেশে ডজন ডজন মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া মানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার শামিল। সেখানে তারা মার্কিন সরকারের সমর্থনে কিংবা তালেবানের সমালোচনা করার কারণে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন।

আইনপ্রণেতারা আরও যোগ করেন, মার্কিন সেনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা বিপন্ন করেছিলেন যেসব আফগান, তাদের কোনো দিনও পরিত্যাগ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আমাদের দেশ।

অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় দেশের নাগরিকদের গ্রহণ করার জন্য অন্তত ৩৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অনেক সময় নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন, হত্যা বা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় এই পথ বেছে নেওয়া হয়।

এই পদ্ধতির সমালোচকরা বলছেন, এর ফলে আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের সুরক্ষায় বহু বছরের বৈশ্বিক মানবিক নিয়মগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা প্রায়শই এমন সব দেশে গিয়ে পড়েন যাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড রয়েছে অথবা যেসব জায়গা এতই বিপজ্জনক যে মার্কিন সরকার নিজ নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট নামের অলাভজনক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত জোরপূর্বক অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট জানিয়েছে, লুইজিয়ানার আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কিছু আফগানকে নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে একটি ফ্লাইটের যাত্রা মঙ্গলবার নির্ধারিত রয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে। অধিকারকর্মীরা জানান, পাকিস্তানে এই বহিষ্কারের দলে কিছু ইরানি নাগরিকও থাকতে পারেন, যাদের এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়েছিল।

তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান লাখ লাখ আফগানকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। আফগানইভাক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শন ভ্যানডাইভারের মতে, বহিষ্কারের মুখে পড়া বেশিরভাগ আফগান আদালতে নিজেদের বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ পাননি।

ভ্যানডাইভার বলেন, আইনি লড়াইয়ের জন্য আইনজীবী না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। সোমবার তিনি তালেবানের পতনের আগের আফগান সরকারের এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন, যিনি আশঙ্কা করছিলেন যে তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানে ফিরে গেলে তার জীবন চরম বিপন্ন হবে।

banner
Link copied!