মস্কোর আগ্রাসন বন্ধের উপায়, যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা চুক্তি এবং উত্তেজনা হ্রাসের বিষয়ে আলোচনা করতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদলকে একসঙ্গে বসাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ সোমবার এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন।
শীতকাল শুরু হওয়ার আগেই চলমান এই সংঘাতে একটি দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা। এর আগে সর্বশেষ মার্কিন মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর আগের ঘটনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্টিভ উইটকফ জানান, আবুধাবির এই বৈঠকে যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংঘাতের মাত্রা কমানো, মানবিক পদক্ষেপ এবং সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ অবসানের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সেন্ট পিটার্সবার্গে উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন দফার এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সম্মত হন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত বন্ধে মার্কিন প্রশাসনের চলমান সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আমিরাতে নির্ধারিত এই বৈঠকের আগে চলতি সপ্তাহে ব্রাসেলসে কাজভিত্তিক বৈঠকে বসবেন মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা। সেখানে তারা ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন।
ইউরোপের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ইউরোপের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কাঠামো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক আলোচনাগুলোর ধারাবাহিকতায় এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি অর্জনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টারই প্রতিফলন এই উদ্যোগ।
তবে যেকোনো সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার অবস্থান এখনও অনেক দূরে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের ওপর যেকোনো ধরনের একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
