অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় চালানো ইসরায়েলি হামলায় ১৪ জন শিক্ষার্থী এবং আটজন শিক্ষাকর্মী নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা উপাত্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার রাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স ছয় থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।
নিহত শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে চারজন শিক্ষক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন কর্মী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা হলে ওই তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী মারা যান। এছাড়া একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি হামলায় এক নারী শিক্ষাবিদও নিহত হয়েছেন।
স্কুল এবং অস্থায়ী শিক্ষাতাঁবু লক্ষ্য করে চালানো হামলায় শিশু, শিক্ষার্থী ও স্টাফদের আহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের কারণে বেশ কয়েকটি স্কুল তাদের ক্লাস স্থগিত বা বিলম্বিত করতে বাধ্য হয়েছে।
এই বিঘ্নগুলো অবরুদ্ধ উপত্যকার একাধিক এলাকায় প্রভাব ফেলেছে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস, পূর্বাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ, মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত ও বুরেজ শরণার্থী শিবির এবং উত্তর গাজার কিছু অংশ।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে চলমান অবরোধ এবং সীমান্ত ক্রসিংগুলোর বন্ধ থাকার কারণে বিদেশি বৃত্তিপাপ্ত ফিলিস্তিনির শিক্ষার্থীরা বিদেশে ভ্রমণ করতে পারছেন না। এর ফলে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন।
বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে স্কুলগুলোর প্রয়োজনীয় সরবরাহের প্রবেশও অবরুদ্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সুবিধাগুলো মেরামত করার জন্য নির্মাণসামগ্রী, অস্থায়ী ক্লাসরুমের জন্য তাঁবু, স্কুল আসবাবপত্র এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সরঞ্জাম এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জ্বালানি সংকটের কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত জেনারেটরগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ সংস্থাসমূহ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষা করতে, শিক্ষাগত অবকাঠমোর ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং গাজার শিক্ষাব্যবস্থার সম্পূর্ণ পতন রোধ করতে প্রয়োজনীয় সরবরাহের প্রবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অবরুদ্ধ এলাকার ৯৫ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্কুলগামী ২০ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী এবং ৫৩২ জনের বেশি শিক্ষক নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের পূর্বের উপাত্তে দেখানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও পরবর্তী ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ৫৯৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচ হাজার ৭৪৮ জন আহত হয়েছেন। ওই যুদ্ধবিরতির আগে দুই বছরব্যাপী চলা যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত এবং অবরুদ্ধ এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছিল।
