ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের উপরাষ্ট্রপতি জেভদত ইলমাজ। ইস্তাম্বুল কংগ্রেস সেন্টারে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বিয়াল্লিশতম মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকের সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও নেতানিয়াহু প্রশাসন প্রতিটি সুযোগে ঠুনকো অজুহাতে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ইলমাজ। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে উত্তরণে ব্যর্থতা এবং মানবিক সহায়তা সরবরাহে বাধা প্রদান ফিলিস্তিনি ভাইদের কষ্ট দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মুসলিম বিশ্ব হিসেবে দেশগুলোকে এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে বলে জানান ইলমাজ। তিনি ফিলিস্তিন, বিশেষ করে গাজার জনগণের পাশে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে উপলব্ধ সব উপায়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতি।
বৈঠকগুলোতে যে অংশীদারিত্বের সংকল্প প্রদর্শিত হয়েছে, তা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত কূটনীতির মাধ্যমে নিরসনে মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত ইচ্ছারই প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তুর্কি উপরাষ্ট্রপতি।
সংহতির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে কমসেকের আল-কুদস কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন ইলমাজ। ফিলিস্তিনিদের সহায়তা দিতে ইতিপূর্বে সম্পন্ন আঠারোটি প্রকল্পের বাইরে এ বছর নতুন দশটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কমসেক সিরিয়া কর্মসূচির অগ্রগতিকেও সাধুবাদ জানান তিনি। চলতি বছর চালু হওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পাঁচটি সক্রিয় প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে এসে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য পঁচিশ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন ইলমাজ। ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিধি ও সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
সেবা, বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য ও বাণিজ্যের সহজীকরণের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে সহায়তা করলে পারস্পরিক সহযোগিতা দ্রুততর হবে বলে মন্তব্য করেন ইলমাজ। তিনি জানান, এ বছরের মন্ত্রীপর্যায়ের আলোচনায় বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন উপকরণ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে চব্বিশটি দেশ এবং বারোটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাষট্টিটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছে বলে জানান ইলমাজ। আগামী বছরের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামিক অর্থায়ন উপকরণের ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
