গাজা উপত্যকায় সামরিক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ৬ কোটি ৮০ লাখ টন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ জমে গেছে। গত বুধবার আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে পরিবেশ সুরক্ষার অপব্যবহার রোধ দিবসে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ফিলিস্তিনি পরিবেশ মান কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা জানান, জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের মোট পরিমাণ ৬ কোটি ১০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ টনের মধ্যে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টন বিপজ্জনক বর্জ্য রয়েছে, যার সঙ্গে অন্তত ৫০ হাজার টন অ্যাসবেস্টস মিশে আছে। অ্যাসবেস্টস হলো একটি ক্যানসার সৃষ্টিকারী আঁশযুক্ত উপাদান, যা সাধারণত নিরোধক ও নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়।
এই সংঘাতে কৃষি খাত ও জনসেবাগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সামরিক অভিযানে গাজার ৮২ শতাংশ কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ৯৭ শতাংশ জলপাই গাছসহ অন্যান্য ফলজ গাছ নিশ্চিহ্ন হয়েছে। এ ছাড়া পানি ও পয়োঃনিষ্কাশন অবকাঠামোর ৮৪ শতাংশ ধ্বংসের শিকার হয়েছে।
স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ায় সর্বত্র ব্যাপক দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকার রাস্তাঘাট ও জলাধারে এখন প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার পরিশোধিত বর্জ্যপানি মিশছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে চলা এই সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসের পাশাপাশি এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও পৃথক পরিবেশগত লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ওই অঞ্চলে ৭৬০টি পরিবেশগত হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়। এসব ঘটনায় কৃষিজমি, স্থানীয় উদ্ভিদরাজি, পানির উৎস ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
পশ্চিম তীরের হিসাব বিশ্লেষণ করলে ক্ষতির বিভিন্ন চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। কৃষিজমি ও প্রকৃতি সংরক্ষণে ২০৩টি হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে জলপাই বাগান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া, বসতি নির্মাণের রাস্তা তৈরি এবং সামরিক ও বসতি স্থাপনের জন্য জমি দখল করার মতো ঘটনা রয়েছে।
বনভূমি ও উদ্ভিদের ওপর ১৭৮টি পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানের সময় হাজার হাজার গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ জলপাই গাছও রয়েছে। গাছ ধ্বংসের কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬ কোটি ৭০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
নথিবদ্ধ অন্যান্য লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে বিপজ্জনক ভাঙা অংশ ও বর্জ্য ফেলার ১৮৫টি ঘটনা। গবাদিপশু ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর হামলার সংখ্যা মোট ৫২টি, আর পানির কূপ ও উৎস লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি। এ ছাড়া পানির পাইপলাইন ও সেচ নেটওয়ার্কে ৩৫টি এবং পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ৫টি পৃথক হামলা চালানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব লঙ্ঘন বন্ধ করতে এবং ফিলিস্তিনিদের নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার বাহিনীর সহিংসতা ও সামরিক অভিযান পশ্চিম তীরজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেপ্তার, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া, বুলডোজার দিয়ে জমি ধ্বংস করা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং অব্যাহত বসতি সম্প্রসারণ।
