বৃহস্পতিবার হেব্রুনে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িঘর থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ পশ্চিম তীরের এই শহর থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরই এই নতুন উচ্ছেদের ঘটনা ঘটল।
গত সোমবার ১১ দিনের একটি সামরিক অভিযান শেষ করে শহরটি ছাড়ার কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী। তবে সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই সেনারা পুনরায় অভিযান শুরু করে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, সৈন্যরা শহরের দক্ষিণাঞ্চলের আবু সুনাইনাহ পাড়ায় অভিযান চালায়। তারা একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনে হানা দিয়ে বাসিন্দাদের বেরিয়ে যেতে বাধ্য করে এবং ভবনটিকে একটি সামরিক চৌকিতে পরিণত করে।
স্থানীয় বাসিন্দা কেফাহ আবু সুনাইনাহ গণমাধ্যমের কাছে এই আকস্মিক উচ্ছেদের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ওই ভবনটিতে নারী, শিশু, রোগী ও প্রবীণসহ প্রায় ৫০ জন মানুষ বসবাস করতেন, যাদের সবাইকে কোনো ধরনের আশ্রয় ছাড়াই বের করে দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, জাবের পাড়ায় আরেকটি পৃথক অভিযানে মাজেদ জাবের ও তার দশ সদস্যের পরিবারকেও জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। সৈন্যরা এই সম্পত্তিটিও একটি সামরিক ব্যারাকে রূপান্তর করেছে।
শনিবার হাজার হাজার ইসরায়েলি বসতিবাসীর হেব্রুনে আসার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগেই এই নতুন সামরিক তৎপরতা শুরু হলো। ইব্রাহিম (আ.)-এর স্ত্রীর মৃত্যু স্মরণে আয়োজিত ছাইয়ি সারাহ বা সারাহর জীবন নামক ইহুদি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এসব দর্শনার্থী সেখানে আসছেন।
গত ২৩ অক্টোবর দুই সেনাসদস্যের প্রাণহানির ঘটনার পর থেকেই হেব্রুনে সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই গোলাগুলির ঘটনার পর ১১ দিনব্যাপী সামরিক অবরোধ চলে, যার ফলে চার হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছিলেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সেনা প্রত্যাহারের খবর পাওয়ার পর অনেক বাসিন্দা তাদের বাড়িঘরে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু ফিরে এসে তারা দেখতে পান যে তাদের সম্পত্তিগুলো হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নয়তো ধ্বংস করা হয়েছে।
স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা বারবার এমন আকস্মিক উচ্ছেদ ও সামরিক আগ্রাসনের মুখে চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক আহ্বানের তোয়াক্কা না করে দখলদার বাহিনী পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
