শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদি আকাশসীমা রক্ষা

মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি জোট

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি জোট

ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলের দিকে হুতির সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করেছে। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা আসার আগে কৌশলগত ইয়ানবু বন্দরের কাছাকাছি সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিল সৌদি আরব।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করে আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে। ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র ও সম্মানিত শহরগুলোর একটি অবস্থিত এই মদিনা অঞ্চলে।

মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতি আন্দোলন। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাদের সামরিক অভিযান কেবল নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি ও তেল স্থাপনাগুলোর ওপর পরিচালিত হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ইয়ানবু গভর্নরেটের ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি সতর্কতা জারি করেছিল। অবশ্য পরবর্তীতে সংস্থাটি জানায় যে আশঙ্কার সেই মুহূর্ত কেটে গেছে।

ইয়ানবু বন্দরটি সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র এবং দেশটির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহে বন্দর ও পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী তাইজ গভর্নরেটের সানামত এলাকায় সামনে এগিয়ে গেছে। কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, সরকারি বাহিনী গত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ১,২৯৮টি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

আল-নাজিলির দাবি অনুযায়ী, এসব অভিযানে প্রায় ৪০০ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং ১৩২টি গাড়ি, মোটরযান ও ভারী অস্ত্রের অবস্থান ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাবে আল-মান্দেব প্রণালি এবং তাইজের ধুবাব জেলার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এছাড়া আল-জৌফ ট্রন্টে উদ্ধার করা এলাকাগুলো থেকে মাইন ও ফাঁদ সরাতে কাজ করছিল সামরিক প্রকৌশলী দলগুলো।

গত মাসের শেষ দিকে সরকারি কর্মকর্তারা জানান যে গত ৫ অক্টোবর থেকে ১৬,১০০ জন হুতি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের দিকে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো হুতিরা হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করেনি।

সানার স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের গবেষণা ব্যবস্থাপক ইজিদ আল-জেদ্দাবি বলেন, এই সংঘাত দিন দিন দীর্ঘস্থায়ী এক ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সরকারি অভিযান শক্তির ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অভ্যন্তরীণ এই সংঘাত এখন বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে জড়িত যুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

banner
Link copied!