শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিম তীর উচ্ছেদ

ই ওয়ান প্রকল্পের আগে ফিলিস্তিনি বেদুইন বসতি গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

ই ওয়ান প্রকল্পের আগে ফিলিস্তিনি বেদুইন বসতি গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল

অধিকৃত জেরুজালেমের পূর্বে বিতর্কিত ই ওয়ান প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত এলাকায় ফিলিস্তিনি বেদুইন সম্প্রদায়ের প্রায় অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় কুড়ি জন বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বাকি জনসংখ্যার মাথার ওপরও উচ্ছেদের খড়্গ ঝুলছে বলে তিনটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইর আমিন, বিমকম এবং পিস নাউ যৌথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী বীর আল-মাসকুব এলাকায় চারটি আবাসিক প্রাঙ্গণ ধ্বংস করে দিয়েছে। ধ্বংস করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ওই বসতি সম্প্রসারণ অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত ঘরবাড়ি, রান্নাঘর এবং পয়োনিষ্কাশন সুবিধা।

এ ছাড়া ওই এলাকার বাকি সব কাঠামোর বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের পুরনো demolition order বা উচ্ছেদাদেশ নবায়ন করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরো সম্প্রদায়টি তাৎক্ষণিক বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ই ওয়ান জোনের ভেতরে বেদুইন সম্প্রদায়কে টার্গেট করে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর এটাই প্রথম নজির। একই সঙ্গে অন্যান্য ফিলিস্তিনি জনপদগুলোও এ ধরনের ব্যবস্থার শিকার হতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এই অভিযান কেবল পরিকল্পনা প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে মোড় নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আইনি লড়াই চলমান থাকা সত্ত্বেও বসতি সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত জমি থেকে ফিলিস্তিনি বেদুইন সম্প্রদায়কে উচ্ছেদের বৃহত্তর অভিযানের এটি শুরু মাত্র বলে সতর্ক করেছে সংগঠনগুলো।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং মাআলে আদুমিম বসতির মাঝখানে তিন হাজার চারশো একটি বসতি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে ই ওয়ান প্রকল্পের আওতায়। সমালোচকরা বলছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নস্যাৎ হবে।

ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলো মাআলে আদুমিমের আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থিত ছিল। স্থানীয় পরিকল্পনার প্রয়োজনেই এসব ধ্বংস করা হয়েছে বলে ইসরায়েলের দাবি যে মিথ্যা, তা এই দূরত্বের বিষয়টি প্রমাণ করে বলে মত দিয়েছে অধিকার গোষ্ঠীগুলো।

বীর আল-মাসকুব ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই ঘটনা পরিকল্পনা থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের এক বিপজ্জনক রূপান্তরকে নির্দেশ করে। গত মাসের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েলের বিদায়ী সরকার বসতি নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে এবং মাঠে অপরিবর্তনীয় পরিবর্তন আনতে এসব করছে বলে অভিযোগ করেছে মন্ত্রণালয়।

এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং পশ্চিম তীরকে খণ্ডিত করার হুমকিস্বরূপ বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ধ্বংসযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং বাস্তুচ্যুতি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মার্কিন প্রশাসনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর বাইরেও কালকিলিয়া গভর্নরেটের জমিতে নির্মিত ওরানিত এলাকায় একানব্বইটি নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণের জন্য দুটি নতুন দরপত্র ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি এই প্রকল্পগুলোর জন্য দরপত্র জমা নেওয়া শুরু হবে।

banner
Link copied!