শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

পারমাণবিক প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান: কাতারের মাধ্যমে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৮:০০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান: কাতারের মাধ্যমে

কাতারের মধ্যস্থতায়ী চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। গত বৃহস্পতিবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সাতটি সুনির্দিষ্ট দাবি ওয়াশিংটন পূরণ করার পরই কেবল ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখছে। তবে ওই কর্মকর্তা প্রস্তাবের ভেতরের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত বন্ধ করতে মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছেন।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বৈরিতা আবার শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো সামনে এল।

গত মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটগ্রহণের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করতে অস্বীকৃ্তি জানান। অন্যদিকে লড়াই শুরু হলে বৃহত্তর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে তেহরান।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি গত বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরকালে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেজায়ি বলেন, কূটনীতির ইস্যুতে আমরা আমেরিকানদের কাছে সাতটি শর্তের কথা ঘোষণা করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আমাদের সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না করবে, ততক্ষণ আমরা হরমুজ প্রণালী খুলে দেব না এবং কোনো আলোচনাও করব না।

তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, আটকে রাখা ইরানি আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা। এর বাইরেও বেশ কিছু শর্ত রয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, উভয় দেশের মধ্যকার যেকোনো প্রাথমিক আলোচনার প্রধান অংশ হতে হবে পারমাণবিক ইস্যুগুলো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে হামলা চালায়।

এই আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ আন্দোলনের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। এই সংঘাত ইয়েমেন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরানপন্থী হুথি বাহিনী সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালায়।

banner
Link copied!