বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

এয়ারলাইনস মুনাফা পতন

অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ও জ্বালানি খরচে কমল এমিরেটস গ্রুপের মুনাফা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ও জ্বালানি খরচে কমল এমিরেটস গ্রুপের মুনাফা

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে মুনাফায় বড় ধরনের পতন ঘটেছে এমিরেটস গ্রুপের। গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ছয় মাসে কোম্পানির নিট মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬০ কোটি দিরহামে, যা প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।

কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে করপূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ৪১০ কোটি দিরহাম বা ১১০ কোটি ডলার। আগের বছর রেকর্ড ব্যবসায়িক সাফল্যের পর মোট রাজস্ব ১২ শতাংশ কমে ৬৬ হাজার ২০০ কোটি দিরহাম বা ১,৮০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

সুদ, কর, অবমূল্যায়ন ও প্রাক্কলনপূর্ব আয় বা ইবিআইটিডিএ ৪১ শতাংশ কমে ১,২৫০ কোটি দিরহাম বা ৩৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলাকেই এই পতনের জন্য দায়ী করেছেন।

শেখ আহমেদ জানান, গ্রাহকদের অবিরাম চাহিদা এবং শক্তিশালী কার্গো কার্যক্রমের সহায়তায় নানা বাধা সত্ত্বেও গ্রুপটি লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আকাশপথে নিরাপদ যাতায়াত পুনরুদ্ধার এবং অঞ্চলের বিভিন্ন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা সম্ভব হয়েছে।

কঠিন ব্যবসায়িক পরিবেশের মধ্যেও কোম্পানিটি তাদের বিমান বহর সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। গ্রুপের আর্থিক স্থিতিস্থাপকতা ও তারল্যের কথা উল্লেখ করে চলতি অর্থবছরের বাকি সময় নিয়ে আশাবাদী থাকার কথা জানান শেখ আহমেদ।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ কোম্পানির হাতে নগদ রিজার্ভ ছিল ৫,৪১০ কোটি দিরহাম বা ১,৪৭০ কোটি ডলার। গত মার্চ মাসের শেষে এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৫,৯৬০ কোটি দিরহাম।

ঋণ পরিশোধ, নতুন বিমান ক্রয়ের অগ্রিম প্রদান এবং মালিকপক্ষকে ২ বিলিয়ন দিরহাম লভ্যাংশ দেওয়ার কারণে নগদ রিজার্ভ কমেছে। লক্ষ্যভিত্তিক কর্মী নিয়োগ অব্যাহত থাকলেও গ্রুপের মোট জনবল দুই শতাংশ কমে ১,২৮,২৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

আলোচ্য ছয় মাসে বিমানটি ২ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। ফ্লাইট সূচি সংক্ষিপ্ত করার কারণে মোট পরিবহন ক্ষমতা ১০ শতাংশ কমে ২,৮২০০ কোটি এভেইলেবল টন-কিলোমিটারে নেমে এসেছে।

এভেইলেবল সিট কিলোমিটার হিসেবে যাত্রীবহন ক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া রাজস্ব যাত্রী কিলোমিটারে পরিমাপ করা ট্রাফিক কমেছে ২৫ শতাংশ।

যাত্রী আসনের গড় দখল বা সিট ফ্যাক্টর কমে ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আসন পূরণের এই হার ছিল ৭৯.৫ শতাংশ।

banner
Link copied!