বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি বিকল্প

তৃতীয় তেল পাইপলাইন প্রকল্পের সংবাদ সঠিক নয়: দাবি আদনকের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

তৃতীয় তেল পাইপলাইন প্রকল্পের সংবাদ সঠিক নয়: দাবি আদনকের

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি বা আদনক একটি নতুন তেল পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে। গত বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে তৃতীয় কোনো পাইপলাইন চালুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল।

ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে এই অবকাঠামো প্রকল্পটি আমিরাতের পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু হয়ে পূর্ব উপকূলের ফুজাইরাহ বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এমনকি অন্য কোম্পানিগুলোর জন্যও এটি উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে কোম্পানিটি এশিয়ার বেশ কিছু ক্রেতার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনা কিংবা পাইপলাইনের সঠিক পথ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

আদনকের একজন মুখপাত্র সরাসরি এই দাবির জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্লুমবার্গকে আমরা আগেই জানিয়েছি যে এই প্রতিবেদনটি সঠিক নয় এবং এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর।

বর্তমানে আমিরাতের হাবশানি ক্ষেত্র থেকে ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য একটি অবকাঠামো রয়েছে। এর মাধ্যমে ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করেই তেল বোঝাই করতে পারে।

বর্তমান এই লাইনটির দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে। প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে এই পথটি আমিরাতকে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে থাকে।

এদিকে পশ্চিম পূর্ব পাইপলাইন নামে দ্বিতীয় আরেকটি লাইনের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। আদনক গত মে মাসে জানিয়েছিল যে তারা ২০২৭ সালে এই দ্বিতীয় লাইনের অপারেশন শুরু করার আশা করছে।

এই দ্বিতীয় লাইন চালু হলে ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানির ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সেই সময় কোম্পানির প্রধান নির্বাহী সুলতান আল জাবের জানিয়েছিলেন যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আদনক গত মাসে নির্দিষ্ট কিছু এশীয় শোধনাগারকে জানিয়েছে যে তারা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ফুজাইরাহ থেকে এই দ্বিতীয় লাইনের মাধ্যমে তেল সংগ্রহ শুরু করতে পারবে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য আমিরাতের প্রচেষ্টা কেবল অপরিশোধিত তেল পরিবহনেই সীমাবদ্ধ নয়। বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী থানি আল জেইউদি চলতি বছরের শুরুর দিকে জানিয়েছিলেন যে সরকার তাদের পূর্ব উপকূলের অন্তত তিনটি বন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

এদিকে কুয়েত তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী শেখ নাওয়াফ আল সাবাহর মতে, দেশটি বিকল্প পাইপলাইন রুট নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

banner
Link copied!