বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধকরণ

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধকরণের বৈধতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধকরণের বৈধতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। গত বুধবার লন্ডনে শুরু হওয়া এই দুই দিনের শুনানির মূল বিষয় হলো সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা নাগরিকদের স্বাধীনতায় অযৌক্তিক কোনো হস্তক্ষেপ করে কি না।

কার্যক্রম শুরুর আগে সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মুরি জানান, এই নিষেধাজ্ঞা বাকস্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের অধিকারের ওপর অতিরিক্ত ও অন্যায্য বোঝা তৈরি করছে বলে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের আমলে গত বছরের জুলাই মাসে এই নেটওয়ার্কটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা বন্ধ করার লক্ষ্যে সরাসরি আন্দোলন পরিচালনাকারী গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় প্যালেস্টাইন অ্যাকশন। এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করায় এটিকে আল-কায়েদা ও আইসিলের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমকক্ষ করা হয়েছে। এই সংগঠনের সদস্যপদ বা সমর্থনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়।

আদালতের ভেতরে যখন আইনি শুনানি চলছিল, তখন বাইরে এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ প্রায় পঁচিশ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশের হাতে আটক এক বিক্ষোভকারী এমন একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন যেখানে লেখা ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নন এমন ব্যক্তিদের ঈশ্বর সহায়তা করুন। এই প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে সাংবাদিক ও লেখক সারাহ হেলমের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যিনি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার স্ত্রী।

সারাহ হেলম এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের মন্তব্য প্রকাশ করলেও কোনো আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হননি, যা নিয়ে সমালোচকরা আইনের প্রয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যুক্তরাজ্যের আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক পরিচালক টম সাউদার্ডেন এই গ্রেপ্তারের ঘটনার পর একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্ল্যাকার্ড হাতে নেওয়া সংগীতশিল্পী, রাজনীতিবিদ ও তারকাদের আটক করা সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি অন্ধকার রূপ। সাউদার্ডেন আরও যোগ করেন, সারাহ হেলমের ক্ষেত্রে যে ভাষা কোনো শাস্তির মুখে পড়েনি, সেটাই ব্যবহার করার কারণে সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করা যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অস্পষ্ট রূপটিই প্রকাশ করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক সংগঠন সরকারকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বর দমনের এই প্রক্রিয়া নিরন্তর সমালোচনার মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে সুইডিশ গবেষক আন্দ্রেয়াস মালমকে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো সমর্থনের কারণে তাঁর উপস্থিতি জনকল্যাণের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে দেশটিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

গত জুলাই মাসে দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছিলেন যে লেবার পার্টি গাজা ইস্যুতে তাদের অবস্থান সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। মালমের প্রবেশাধিকার অস্বীকৃতির পর তাঁর এই মন্তব্যগুলো নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট যাই রায় দিক না কেন, সরকারের উচিত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা একটি ভুল ছিল তা স্বীকার করে নেওয়া, এমনটাই মন্তব্য করেছেন সাউদার্ডেন।

banner
Link copied!