লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিন্ত জুবাইল জেলার হাদ্দাথা শহরে বুধবার সকালে বেশ কিছু বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা পুড়ে যাওয়া ঘরের সঠিক সংখ্যা সরকারি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় তীব্র কামান হামলা চালানো হয়েছে। বিন্ত জুবাইল জেলার বারাসিত এবং টায়ার জেলার মনসুরি ও ওয়াদি জিবকিন এলাকায় এই গোলাবর্ষণ করা হয়। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হাসবাইয়া জেলায় কাফার শুবা এলাকার হালতা ফার্মের কাছে জলপাই সংগ্রহকারী কৃষকদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে একটি ইসরায়েলি ড্রোন। এতে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কেউ আহত হননি।
রাজধানী বৈরুত ও এর দক্ষিণ উপকণ্ঠের ওপর দিয়েও নিচু উচ্চতায় উড়তে দেখা গেছে ইসরায়েলি ড্রোন। এছাড়া লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের জাহরানি এলাকা এবং মাউন্ট লেবাননের চৌফ জেলার ইকলিম আল খাত্তুব অঞ্চলেও একই ধরনের ড্রোন উড্ডয়ন রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ২০২৬ সালের জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর ধীরে ধীরে লেবানন থেকে সরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই চুক্তিকে উপেক্ষা করে সামরিক অভিযান, বাড়িঘর ধ্বংস ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় চার হাজার চারশ মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন বারো হাজার চারশতেরও বেশি মানুষ।
এই সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অংশ এখনো দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। এর মধ্যে কিছু দখলদারিত্ব কয়েক দশক ধরে চলে আসছে এবং কিছু এলাকা দখল হয়েছে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধের সময়।
সর্বশেষ সংঘাতে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীরে ঢুকে পড়েছিল এবং এখনো তাদের সামরিক তৎপরতা বন্ধ হয়নি।
