জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে পাঁচজন নতুন বিচারককে নির্বাচিত করেছে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এই বিচারিক প্যানেল বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলার পরিচালনা করছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে একযোগে এই ভোটাহুটি অনুষ্ঠিত হয়। জয়লাভের জন্য প্রার্থীদের সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদ উভয় কক্ষেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হয়।
যুক্তরাজ্যের ডাপো আকান্দে, ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া আলাব্রুন, জর্ডানের মাহমুদ দাইফাল্লাহ হামুদ, সিঙ্গাপুরের রেনা লি এবং কেনিয়ার ফোবি ওকোওয়া ৯ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এই দুটি সংস্থা শুরুতে চারজন প্রার্থীর বিষয়ে একমত হলেও পঞ্চম প্রার্থী নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। নিরাপত্তা পরিষদ ইকুয়েডরের মার্সেলো ভাসকেজ-বেরমুদেজকে সমর্থন করলেও সাধারণ পরিষদ ওকোওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়, যার ফলে অতিরিক্ত দফার ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়।
পরবর্তীতে ভাসকেজ-বেরমুদেজ প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ালে ওকোওয়া উভয় কক্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হন।
নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক এই আদালত বিভিন্ন দেশের ১৫ জন বিচারক নিয়ে গঠিত, যারা প্রত্যেকে ৯ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন এবং পুনরায় নির্বাচিত হতে পারেন। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতি তিন বছর পরপর বিচারক প্যানেলের এক তৃতীয়াংশ পরিবর্তন করা হয়।
এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন বিশ্ব আদালত নজিরবিহীন কাজের চাপের মুখোমুখি। গত ২৯ অক্টোবর আদালতের প্রেসিডেন্ট ইউজি ইওয়াসাওয়া সাধারণ পরিষদকে জানান যে বর্তমানে ২৪টি অমীমাংসিত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এই সক্রিয় বিরোধগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূখণ্ডগত অধিকার, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বিষয়াদি। এর মধ্যে গাজায় যুদ্ধের সময় ইসরায়েল গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে বলে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলাটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গাজা সংঘাতের বিষয়ে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন কিছু পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়নি। গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আদালত এক পরামর্শমূলক রায়ে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতি ইসরায়েলের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।
এর বাইরেও গত মঙ্গলবার আদালত ঘোষণা করেছে যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে।
১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে থাকে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নগুলোর ওপর পরামর্শমূলক মতামত প্রদান করাই এই আদালতের মূল কাজ।
