ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির যোগাযোগ বেআইনিভাবে আড়ি পাতার অভিযোগে তিন শীর্ষ পুলিশ জেনারেলকে আটকের কথা জানিয়েছে ইন্দোনেশীয় পুলিশ।
,জাতীয় পুলিশ অপরাধ তদন্ত সংস্থার প্রধান আসেপ সাফরুদিন জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনরা বেআইনিভাবে যোগাযোগে আড়ি পাতা, ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক ডেটা মুছে ফেলার মতো অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
,কর্তৃপক্ষ আটক কর্মকর্তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তারা হলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের চিফ অব স্টাফ জেনারেল লিস্টিও সিতিগ প্রাবোও, জাতীয় পুলিশ আইনি বিভাগের প্রধান ইন্সপেক্টর জেনারেল আহরি সোন্টা নাসুশন এবং জাতীয় পুলিশ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক ইন্সপেক্টর জেনারেল একো হাদি সান্তোসো।
,জাকার্তায় জাতীয় পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাফরুদিন জানান, এই তিনজনকে সদর দপ্তরের আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
সাফরুদিন বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, বেসরকারি সংস্থার কর্মী এবং ব্যবসায়ীদের ফোন নম্বরে বেআইনি বা নিয়মবহির্ভূতভাবে আড়ি পেতেছিলেন।
,এই অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রাবোও বা আটক তিন কর্মকর্তার কেউই জনসমক্ষে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। রাষ্ট্রপতির চিফ অব স্টাফের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্রের সঙ্গেও মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
,সাফরুদিন জানান, তদন্তকারীরা এই ঘটনায় ১০ জন সাক্ষী এবং তিনজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী কর্মীরা আলামত হিসেবে ১১টি মোবাইল ফোন, একটি আইপ্যাড এবং চারটি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ জব্দ করেছেন।
,পুলিশ জানিয়েছে, অননুমোদিত এই আড়ি পাতার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে। ওই সময়ের একটি অংশে লিস্টিও জাতীয় পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সন্দেহভাজনরা ২০১০ সালের জাতীয় পুলিশ প্রবিধানের পদ্ধতি অনুসরণ না করে বেআইনিভাবে ওয়্যারট্যাপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই লফুল ইন্টারসেপশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে একাধিক ফোন নম্বর প্রবেশ করিয়েছিলেন।
,তদন্তকারীরা আরও জানান, প্রমাণ ও অভিযানের চিহ্ন লুকাতে সন্দেহভাজনরা সম্প্রতি অধস্তনকর্মীদের কম্পিউটার সিস্টেম থেকে আড়ি পাতার ফাইলগুলো মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নজরদারির পেছনের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ করেনি এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
,আইন, মানবাধিকার, অভিবাসন ও কারেকশন বিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী ইউসরি ইহজা মাহেন্দ্র মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাকার্তায় পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, তদন্তকারীরা সক্রিয় এসব কর্মকর্তার সঙ্গে দেশদ্রোহিতার কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাননি।
,মাহেন্দ্র বলেন, যখন এই ধরনের বিষয় সামনে আসে, তখন একটু ভেবে দেখুন যদি একজন রাষ্ট্রপতি বা সরকারি মন্ত্রীদের ওপর আড়ি পাতা হয় এবং আমরা যদি না জানি কেন এই নজরদারি চালানো হয়েছে। এটি কোনো ছোট বিষয় নয়, যেকোনো দেশের জন্যই এটি একটি গুরুতর বিষয়।
,মাহেন্দ্র নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন ইন্দোনেশীয় দণ্ডবিধির ২৫৮ ধারা অনুযায়ী সন্দেহভাজনদের বিচার করা হবে। এই ধারায় গোপন ইলেকট্রনিক যোগাযোগে বেআইনি আড়ি পাতা বা নজরদারি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
,তারা দণ্ডবিধির ৩৩২ ধারার অভিযোগের মুখোমুখিও হয়েছেন, যার সর্বোচ্চ সাজা ছয় বছরের কারাদণ্ড। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডেটা অননুমোদিতভাবে মুছে ফেলার কারণে ইলেকট্রনিক ইনফরমেশন অ্যান্ড ট্রানজেকশন আইনের ৩২ ধারায় তাদের সর্বোচ্চ আট বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
