ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন তুরস্কে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। তেহরানে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান যে তেহরান ও আঙ্কারার মধ্যকার সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সংযোগকে তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
তুরস্কসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে নতুন রাষ্ট্রদূতকে জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট।
তিনি উল্লেখ করেন যে সৌহার্দ্যপূর্ণ এই সম্পর্ক দিন দিন আরও প্রসারিত হচ্ছে। অঞ্চলের বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রাখা জরুরি।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আঞ্চলিক পরিস্থিতির দিকে নজর দেন পেজেশকিয়ান। তিনি অভিযোগ করেন যে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায় ইসরায়েল।
তিনি বলেন যে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে গণহত্যা ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য অর্জনে এগোচ্ছে। সেই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর ভেতর অনৈক্য ও ফাটল ধরাতে চাইছে তারা।
তাদের এই আগ্রাসী লক্ষ্য কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমস্ত মুসলিম দেশের জন্যই হুমকি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জোরালোভাবে বলেন যে এই অঞ্চলে বিভেদ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব, যদি মুসলিম দেশগুলোসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করে।
তিনি আরও যোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় দেশের প্রত্যক্ষ সমর্থনে ইসরায়েল এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ এই অপরাধের সামনে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে তুরস্কের নতুন রাষ্ট্রদূত দোগান দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং যৌথ প্রকল্পগুলোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন বলে জানান।
