বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইসলামোফোবিয়া ও অপপ্রচার

ইসরায়েলি সংযোগে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে ইসলামবিরোধী বিশাল অপপ্রচার নেটওয়ার্ক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

ইসরায়েলি সংযোগে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে ইসলামবিরোধী বিশাল অপপ্রচার নেটওয়ার্ক

ইসরায়েলের সাথে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একাধিক মহাদেশজুড়ে একটি বিশাল ইসলামবিরোধী অপপ্রচার নেটওয়ার্ক পরিচালিত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক বৈশ্বিক অনুসন্ধানে।

ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট শিরোনামের এই গবেষণায় ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়কাল বিবেচনায় নেওয়া হয়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৮০ কোটি বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হয়েছে।

মার্ক ওয়েন জোনস এবং সোহান ডি’সুজা নামের দুই গবেষক এই পুরো কার্যক্রমের নথিপত্র প্রস্তুত করেছেন। তারা এই উদ্যোগকে এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় প্রভাব বিস্তারকারী ও অপপ্রচারমূলক অভিযানগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এই নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত গ্র্যান্ড থেফট কাতার নামক একটি নির্দিষ্ট প্রচারণায় কাতারবাসীদের ইউরোপীয় ভবন কিনে সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করার মিথ্যা চিত্র তুলে ধরা হয়।

এই বৃহৎ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট তত্ত্বের প্রচার। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দাবি করা হয় যে অভিবাসন ও জনমিতির পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের স্থলাভিষিক্ত করা হচ্ছে অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে।

গবেষক সোহান ডি’সুজা সাংবাদিকদের জানান, এই নেটওয়ার্কের সাথে সরাসরি ইসরায়েলি সরকারের কোনো চূড়ান্ত সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে প্রমাণ মিলেছে যে এর সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল কার্যালয় ইসরায়েলেই অবস্থিত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রমগুলোর সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে।

ভিয়েতনামের প্রক্সি কোম্পানির সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে গবেষকরা এই প্রচারণার প্রাথমিক কার্যক্রমের উৎস হিসেবে ইসরায়েলের সন্ধান পান। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ২০২৪ সালের মে মাসে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পর তারা কিছুকাল আড়ালে থাকে এবং পরবর্তীতে নভেম্বরে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে ব্রাজিলীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের রূপ ধারণ করে।

মেটার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে সমন্বিত অপপ্রচারের পথ বন্ধ করতে তাদের প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে তাদের সম্প্রদায়ের নীতিমালায় ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ক্ষতিকর ভুল তথ্য, প্রতারণামূলক আচরণ এবং সমন্বিত অপপ্রচার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

এই অনুসন্ধানের ফলাফলের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গবেষকরা সরকারের প্রতি কঠোর নিয়মকানুন বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য বাধ্যতামূলক পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন তারা।

banner
Link copied!