ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সংঘাতে হিজবুল্লাহ সামরিক সমর্থন দিলে ইসরায়েল হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না—মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওর এমন হুঁশিয়ারির পর আরব ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। মঙ্গলবার আশর্ক আল-আওসাত পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন ওই হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে ইসরায়েল লিটানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে উত্তরের এলাকার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। এর মধ্যে সিডন-জাহরানি জেলার বিভিন্ন গ্রামও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠসহ রাজধানীর অন্যান্য অংশেও হামলা চালাতে পারে ইসরায়েলি বাহিনী।
এই সতর্কবার্তার পর লেবাননের স্পিকার নাবিহ বেরি তাৎক্ষণিকভাবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে এক মন্ত্রিপর্যায়ের সূত্র সংবাদপত্রটিকে জানিয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে নাবিহ বেরিকে জানানো হয়েছে যে ইরানের তাদের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই এবং মার্কিন হামলা মোকাবিলা করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা তাদের নিজস্ব রয়েছে।
ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান ইলেভেনের মঙ্গলবারের একটি প্রতিবেদনেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি যেন ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে না পারে, সেজন্য হিজবুল্লাহর সদস্যদের বসবাসকারী এলাকায় সেনা মোতায়েন ও তল্লাশি চৌকি বসানোর দাবি জানিয়েছে ইসরায়েল।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রডকাস্টারটি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালালে লেবাননে যুদ্ধ ফের তীব্র আকার ধারণ করবে—এমন ইসরায়েলি সতর্কবার্তার পাশাপাশি মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরাই এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি রূপরেখা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি ও লেবাননের কর্মকর্তারা যখন সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই এই দাবি সামনে এল।
গত জুন মাসে এই সমঝোতা চুক্তি হয়। মূলত গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধে যোগ দিলে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে আসছিল ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালালে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল আগ্রাসন দিয়ে তার জবাব দেয়।
রূপরেখা চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক অঞ্চলগুলো দিয়ে সেনা মোতায়েন শুরু করবে লেবানন বাহিনী এবং এই সময়ে ইসরায়েলি সেনারা তাদের দখলকৃত এলাকা থেকে সরে আসবে। তবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্ত সাপেক্ষে এই সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও গোষ্ঠীটি তা প্রত্যাখ্যান করেছে, যার ফলে চুক্তির বাস্তবায়ন আটকে গেছে।
এদিকে লেবাননের দৈনিক আন-নাহার মঙ্গলবার জানিয়েছে যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা, আর্টিলারি শেলিং ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমাঞ্চলের নতুন সামরিক অবস্থানগুলোকে সংযুক্ত করতে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় সড়কও নির্মাণ করছে ইসরায়েলি সেনারা।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েডিওত আহরোনোত বা মারিভের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন-নাহার জানিয়েছে যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতে লেবাননে কীভাবে অভিযান অব্যাহত রাখা যায়, সেটির পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্ব। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিমান বাহিনী ইরানের ওপর হামলায় ব্যস্ত থাকতে পারে, এমন আশঙ্কায় ইসরায়েলি নৌবাহিনীকেও বড় ধরনের প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
