ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের হাতে আটক থাকা জাতিসংঘের একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-শামী জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
জাতিসংঘের বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৬ জুন থেকে তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই arbitrarily আটক করে রেখেছিল। এই মৃত্যুর ঘটনায় গত শনিবার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে এই নিন্দা জানান গুতেরেস। চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে হুথিদের হেফাজতে মারা যাওয়া দ্বিতীয় জাতিসংঘ কর্মী হলেন আল-শামী।
এর আগে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির স্থানীয় কর্মী আহমেদ বাআলাবিও একইভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে নির্বিচারে আটক থাকা বাআলাবি পরের বছর ১১ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
হুথিদের কারাবন্দী অন্যান্য ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি জানান, বর্তমানে আটক থাকা জাতিসংঘের অন্যান্য কর্মী, সাবেক কর্মী এবং বিভিন্ন মানবিক ও সুশীল সমাজের সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্ন সংঘাতে জর্জরিত হয়ে আছে ইয়েমেন। ওই বছর হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নেয়।
এই ক্ষমতা দখলের জের ধরে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়াই ছিল এই হস্তক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের ফলে পুরো দেশজুড়ে চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে, যার কারণে লাখ লাখ মানুষ ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
