সামরিক শক্তি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনী ও স্মার্ট যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির নির্দেশনার আলোকেই এই সামরিক সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিরক্ষা খাতের এই নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন আখলাকি।
তিনি তাঁর ব্রিফিংয়ে বলেন, কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই জবাব দেওয়ার উপযোগী করে তুলতে তারা সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়ে চলেছেন।
তিনি আরও জানান, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কোনোভাবেই অপ্রস্তুত থাকবে না কিংবা বাইরের কোনো চাপের মুখে থমে দাঁড়াবে না। যেকোনো ধরনের হামলার উপযুক্ত, চূড়ান্ত ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আখলাকি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সামনে আসা কোনো হুমকি নিয়েই তারা আর বিস্মিত হবেন না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পথে হাঁটতে গিয়ে দেশ অন্য কারও ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
প্রতিরক্ষা বিভাগের এই মন্তব্যের সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা পুনরুজীবিত করতে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।
দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। এসব কূটনৈতিক আলোচনার উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে রয়েছে। ওই সামরিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয় তেহরান।
প্রাথমিক এই সংঘাতের পর জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকপত্রসহ নানা কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল নিয়ে এখনো উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
