ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা অর্জিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে একই সঙ্গে যেকোনো খারাপ পরিস্থিতির জন্যও দেশটি পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
রোববার মানামায় আয়োজিত এক সম্মেলনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস এই মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, একটি কূটনৈতিক সমঝোতা হোক সেটাই তাদের কাম্য এবং এই অঞ্চলে আরেকটি নতুন সংঘাত দেখার কোনো আগ্রহ তাদের নেই।
আনোয়ার গারগাস উল্লেখ করেন, অতীতের মতো এবারও যেকোনো নেতিবাচক ফলাফলের মোকাবিলায় দেশটির প্রস্তুতি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা ঘটে।
এর জবাবে তেহরান ওয়াশিংটনের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোসহ বিভিন্ন স্থানে পাল্টা আঘাত হানে। চলতি সপ্তাহে কাতার সরকারের একটি প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের পর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরানও উপসাগরীয় দেশটিতে নিজেদের বিশেষ দূত পাঠায়।
এই আলোচনাগুলো মূলত যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ বালামুখর কূটনীতিরই একটি অংশ। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ফের নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ভেতরে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রয়োজন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। রোববার মানামা সম্মেলনে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড ব্লোম।
তিনি বলেন, এই অঞ্চল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কোনোভাবেই ইরানের হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। তবে একই সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা ও সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ড্লোম বলেন, আলোচনার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেই পথগুলো একই সঙ্গে খোলা ও সক্রিয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য কোনো কঠোর পথে হাঁটার প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও শনিবার জানান, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
