হরমুজ প্রণালীর পূর্বে একটি সামুদ্রিক মাইনে ধাক্কা লেগেছে একটি বিশাল সুপারট্যাংকার। এর ফলে জাহাজটিতে তীব্র বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বা আইআরজিসি নেৌবাহিনী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর এই শাখাটি জানায়, ওই জলপথ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বিস্ফোরক ডিভাইসটির সঙ্গে জাহাজটির সংঘর্ষ হয়। তবে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ট্যাংকারটির পরিচয় প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জাহাজের নাবিক বা ক্রুদের মধ্যে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ। এমনকি জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।
বিস্ফোরণের পর ওই অঞ্চলে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য একটি সরাসরি সতর্কবার্তা জারি করেছে আইআরজিসি নেৌবাহিনী। কৌশলগত এই জলপথের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জলযানের চালকদের।
প্রণালী পার হওয়া সব জাহাজের ক্যাপ্টেনদের সার্বক্ষণিকভাবে অটোমেটিক ট্র্যাকিং সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু রাখার কড়া তাগিদ দেওয়া হয়েছে। উত্তপ্ত এই করিডোরে সামুদ্রিক ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলটি বারবার সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন স্বার্থে পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করে তেহরান। গত এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সেই শত্রুতার অবসান ঘটেছিল।
এরপর গত ১৮ জুন হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। তবে প্রণালীর অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান মতবিরোধের কারণে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে রয়েছে।
