ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তফা রবিবার রামাল্লায় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ প্রতিনিধি ক্রিস্টোফ বিগটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক আগ্রাসন এবং পুরো পশ্চিম জুড়ে বাড়তে থাকা চাপ নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়।
রামাল্লায় নিজের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তফা পশ্চিম তীরে দখলদারিত্বের বর্ধিত পদক্ষেপ এবং বসতিস্থাপনকারীদের হামলার প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনের করের অর্থ আটকে রাখার ইসরায়েলি নীতির প্রসঙ্গও তোলেন, যা টানা আঠারো মাসে গড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক অংশীদার বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এই কঠিন সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির জন্য এমন সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি ইইউ প্রতিনিধিকে জানান।
সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সম্পর্কে ইউরোপীয় প্রতিনিধিকে হালনাগাদ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই উদ্যোগ সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান চরম অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশে দাঁড়াতে তিনি অব্যাহত আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান।
বৈঠকে গাজা উপত্যকার সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের মতো অতিপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো সচল রাখা এবং সাধ্যমতো অতিরিক্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন মোহাম্মদ মুস্তফা।
প্রাথমিক পুনরুদ্ধারের জন্য মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সমর্থন জোগানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় যেকোনো ভবিষ্যতের পুনর্গঠন কাজের ভিত্তি হতে হবে মৌলিক চাহিদাগুলোর পুনরুদ্ধার।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অংশ নেন। অর্থমন্ত্রী স্টেফান সালামেহ, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত ওমর আওয়াদাল্লাহ এবং ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধি আন্দ্রেয়াস ফিডলার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রবিবার অপর এক বৈঠকে ফিলিস্তিনের উপরাষ্ট্রপতি হুসেইন আল-শেখ ইউরোপীয় একটি উচ্চপর্যায় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করেন। ফিলিস্তিনি নাগরিক, তাদের সম্পদ এবং বিদেশি সংহতি কর্মীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্রতা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান হুসেইন আল-শেখ। একই সঙ্গে এই সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
