ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে পরিচালিত সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে প্রায় ৫০০ হুথি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। চলমান সংঘাতের এই খতিয়ান তুলে ধরেন সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি।
,তবে হতাহতদের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান ওই বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আল-নুজাইলি জানান, এই অভিযানে ১৬৯টি সামরিক যান, ভারী অস্ত্র এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
,ইয়েমেনের ভোর বা ফজর অভিযানের অংশ হিসেবে হুথিদের অবস্থান, রসদ সরবরাহের পথ, শক্তিবৃদ্ধির বহর, দুর্গ ও গুলিবর্ষণের স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
,সরকারি বাহিনীগুলো উত্তর ইয়েমেনের আল-জউফ রণাঙ্গনে বেশ কিছু নতুন অবস্থান পুনরুদ্ধার করে সামনে এগিয়ে গেছে। এর আগে তারা আল-জউফের কৌশলগত হুওয়াইশিয়ান পর্বতমালা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়, যা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রাদেশিক রাজধানী আল-হাজমের অগ্রবর্তী রক্ষা বলয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
,পাশাপাশি মারিব, আল-বায়দা, লাহিজ এবং তাইজেও সৈন্যরা অভিযান চালিয়েছে। তাইজে সরকারি সেনা ও মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্সের যোদ্ধারা গোলন্দাজ বাহিনী, ড্রোন এবং যুদ্ধবিমানের সহায়তায় হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
,আল-নুজাইলি জানান, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছে নিরাপত্তা বাহিনী। এর আগে সেনাবাহিনী হুথিদের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করে এবং তাইজের দক্ষিণাঞ্চলে আল-মিসরাখ জেলায় বিমান হামলা চালায়।
,এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম তাইজে একটি আবাসিক বাড়িতে হুথিদের ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক শিশু নিহত এবং অপর এক নারী আহত হয়েছেন।
,রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং সানা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গত ৫ অক্টোবর ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ফজর আল-ইয়েমেন বা ইয়েমেনের ভোর অভিযান শুরু করে। উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয় জুলাই মাসে।
,জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তুলনামূলক শান্তির সময়টির অবসান ঘটিয়ে এই সংঘাত মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
,২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথিরা রাজধানী সানা এবং অন্যান্য প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন তীব্র সংঘাতে জর্জরিত রয়েছে। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদির নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।
