ব্রাজিলজুড়ে ভোটাররা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নিতে স্থানীয় সময় রবিবার ভোটকেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হন। এই নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০ বছর বয়সি বামপন্থী নেতা লুলা এবং ৪৫ বছর বয়সি ফাভিও বোলসোনারো।
ফাভিও বোলসোনারো হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জাইর বোলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি। ২০২২ সালের পরাজয়ের পর সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার তদন্তে সাবেক রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক পদ পাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে এবং তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর পরই ফাভিও নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন।
দেশের ২৬টি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল জেলায় প্রায় ১৫ কোটি নিবন্ধিত ভোটার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রাসিলিয়ার সময় অনুযায়ী বিকেল পাঁচটায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে এবং এর পরপরই প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যাওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম দফার ভোটের পর এই রান অফ বা দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই নির্বাচনে বৈধ ভোটের ৪৭ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে ছিলেন বোলসোনারো, আর লুলা পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ। তবে কোনো প্রার্থীর পক্ষেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
পরিসংখ্যানগত দিক থেকে একেবারে সমানে সমান অবস্থানে থেকে নির্বাচন শুরু হয়েছে। দাতাফোলহার সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশ করে নিয়ে উভয় প্রার্থীই সমতায় রয়েছেন।
ব্রাজিলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জননিরাপত্তা সংকট এবং দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো নির্বাচনী প্রচারে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। লুলা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেছিলেন এবং ২০২২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রবীণ বোলসোনারোকে দুই শতাংশের কম ব্যবধানে পরাজিত করে আবার ক্ষমতায় ফিরেছিলেন।
আধুনিক ব্রাজিলীয় ইতিহাসে ওই ২০২২ সালের জয় ছিল সবচেয়ে ব্যবধানহীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। লুলা এখন বিরতি দিয়ে চতুর্থ মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির কারাবাসের পরও তার রাজনৈতিক ভিত্তি বেশ শক্ত রয়েছে। প্রথম দফার ভোটেই তার স্ত্রী মিশেল বোলসোনারো ফেডারেল সেনেটে একটি আসন নিশ্চিত করেছেন।
ফাভিও বোলসোনারো জয়ী হলে ব্রাজিলে দক্ষিণপন্থীদের প্রত্যাবর্তন ঘটবে। এর মাধ্যমে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত এই অঞ্চলের বৃহত্তর রক্ষণশীল পরিবর্তনের ধারার সঙ্গেও মিলে যাবে।
